পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তার অভিযোগ, নির্বাচনে জয় পেতে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে বিজেপি। একই সঙ্গে কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে তার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতায় পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিজেপির বিরুদ্ধে নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের সমর্থনে তিনি কী কী নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেছেন, তা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
শুধু নির্বাচন নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের অধিকার নিয়েও সরব হয়েছেন অভিনেতা। কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ, নজরদারি ও হুমকির মুখে পড়েছেন। এমনকি তাদের ছাত্রাবাস ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তার মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার থাকা জরুরি। প্রশাসনের সমালোচনা করলেই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা তাদের স্বাধীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটির একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি সংগঠনের সদস্যদের বিরোধের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলচ্চিত্র শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষাঙ্গনে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং তরুণ শিল্পীদের কাজের পরিবেশের প্রশ্ন।
নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্যে এই বিষয়গুলোই গুরুত্ব পেয়েছে।এর আগেও বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলন এবং নাগরিক প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এই অভিনেতা। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতা ও শিক্ষার্থীদের অধিকারকে একই আলোচনায় এনেছেন।তবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগের জবাব পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। একইভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পালাবদলের পাশাপাশি স্বাধীন মতপ্রকাশের প্রশ্নটিও সামনে এসেছে।