যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করার কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে ইরান। ‘জানফাদা’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় দেশটির ৩১টি প্রাদেশিক রাজধানীতে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী তেহরানের অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি প্রাদেশিক রাজধানীতে এক থেকে তিনটি চত্বর এ কাজে ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইতোমধ্যে কর্মসূচির আওতায় সমাবেশ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীদের অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান, সামাজিক সেবা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রমেও তাঁদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরদার এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় জনগণকে প্রস্তুত রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্মসূচিতে নিবন্ধিত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে। তবে এ পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে কয়েকটি বিদেশভিত্তিক ইরানি কর্মী গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট বিশ্লেষণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সেসব সূত্রে পাওয়া নিবন্ধনের সংখ্যা সরকারি দাবির তুলনায় অনেক কম।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইআরজিসির তেহরান শাখার প্রধান হাসান হাসানজাদেহ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে জানান, ছয় লাখের বেশি মানুষ সক্রিয় প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এ সংখ্যারও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচিতে তরুণদের অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তবে শিশু-কিশোরদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে নিরাপত্তা ও অধিকারসংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামরিক প্রশিক্ষণ বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে যুক্ত করার বিষয়টি পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাতার শাখার অধ্যাপক মেহরান কামরাভার মতে, এ কর্মসূচি ইরানের সরকার-সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংহতি বাড়াতে পারে। তবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সব মিলিয়ে, ‘জানফাদা’ কর্মসূচির মাধ্যমে বেসামরিক জনগণকে প্রশিক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করছে ইরান। তবে কর্মসূচিতে প্রকৃত অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং এর সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সীমিত।
The post ইরানে দেশজুড়ে ‘আত্মত্যাগ’ কর্মসূচি, ৩১ প্রদেশে সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ appeared first on ভোরের চেতনা.
