লাকসামে ট্রেন লাইনচ্যুত, ট্রাফিক ও প্রকৌশল বিভাগকে দায়
কুমিল্লার লাকসামে ঢাকামুখী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। রেললাইনে মেরামতের কাজ চললেও তাঁকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ট্রেনটির লোকোমাস্টার। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ
জার্নাল ডেস্ককুমিল্লার লাকসামে ঢাকামুখী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে লাকসামের নাওটি স্টেশনের আউটারে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি রাজিব চন্দ্র কর।
ট্রেনটির লোকোমাস্টার মোয়াজ্জেম হোসেনের অভিযোগ, রেললাইনে মেরামতের কাজ চললেও তাঁকে সে বিষয়ে জানানো হয়নি।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, লাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে ‘লাইন ক্লিয়ারের’ সংকেত নিয়েই তিনি লাকসাম স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
তিনি বলেন, “আমাকে কোনো কশন অর্ডার, কোনো কিছুর রেস্ট্রিকশন দেওয়া হয় নাই। লাইনে কাজ হচ্ছে বা কাজ চলমান- আপনি দেখে শুনে যাইয়েন, এই ধরণের কোনো মাস্টারও বলে নাই, কোনো স্টেশন মাস্টারও বলে নাই, এমনকি গার্ডও বলে নাই।”
বিষয়টি কেউ জানতেন না দাবি করে তিনি বলেন, “আমার অথরিটি কন্ট্রোল বা এই যে এরা কাজ করতেছে লাইনে, এটা কেউ জানে না।”
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লোকোমাস্টার বলেন, “আমি আমার নরমাল স্পিডে আসতেছি, হঠাৎ করে আমার সামনে, ১০০ মিটার দূরে দেখি লাল ব্যানার ফ্ল্যাগ।
“তা দেখে আমি হুইসেল বাজাইতেছি, আমার গাড়ি দাঁড় করানোর জন্য আমার যত চেষ্টা করছি। গাড়ি দাঁড়াইতে দাঁড়াইতে সামনে আইসা দেখি লাইন বিচ্ছিন্ন, এরা কাজ করতেছে, লাইন আউট…”
ট্রেনটির গতি কত ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেকশনের স্বাভাবিক গতিতে, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে চলছিল ট্রেনটি।
মেরামতের কাজের কথা জানা ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন কমিউটার ট্রেনটিকে লাইন ক্লিয়ারেন্সের কাগজ দেওয়া নাঙ্গলকোট স্টেশন মাস্টার জামাল হোসেনও।
তিনি বলেন, “রেলপথের মেরামতের কাজ করা হবে এমন কোনো মেসেজ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি কন্ট্রোল রুম থেকেও আমরা এমন কোনো তথ্য পাইনি।
“যে কারণে আমরা কর্ণফুলী কমিউটারকে লাইন ক্লিয়ারেন্স দিয়েছি। পরে শুনলাম নাওটি রেল স্টেশনের আউটারে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লাকসাম জংশনের স্টেশন মাস্টার ওমর ফারুকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
দুই বিভাগকে দায় দিচ্ছেন প্রকৌশলী
কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের ট্রাফিক ও প্রকৌশল—দুই বিভাগেরই দায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের (পূর্বাঞ্চল) অধীন ফেনী অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল।
তিনি বলেন, “দুটি কারণে এ দুর্ঘটনা হতে পারে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুটি ডিপার্টমেন্টেরই দায় থাকতে পারে। ট্রাফিক কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং।
“এক হচ্ছে লাল পতাকা দেখানোর পরও ট্রেন থামাতে পারেননি, অন্যটা হচ্ছে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে রেল লাইনের কাজ চলছে তা অফিসিয়ালি কাগজপত্রে কোনো নির্দেশনা পাঠায় নি।”
চার সদস্যের তদন্ত কমিটি
নাঙ্গলকোটে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন ও চারটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের এ দুর্ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেনটির যাত্রীরা।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম