ডেস্ক রিপোর্ট : মাত্র দুই বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন মাহফিজুল। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের নানা বাস্তবতা বুঝে চলতে হয়েছে তাকে।
একসময় পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে টিফিনের জমানো টাকা দিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে। সেই ছেলেটিই এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।
চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন মাহফিজুল। সর্বশেষ চার ম্যাচে করেছেন তিনটি সেঞ্চুরি।
এবার চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে খেলেছেন ২০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। ময়মনসিংহ বিভাগের হয়ে ব্যাট করতে নেমে ৩৪০ বল মোকাবিলা করে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক ছুঁয়েছেন এই ওপেনার।
দীর্ঘ ৫৭০ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে সাজিয়েছেন নিজের ইনিংস। মেরেছেন ২০টি চার ও দুটি ছক্কা। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন তিনি। চার ম্যাচে তৃতীয় সেঞ্চুরির পর এবার প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি দিক তুলে ধরলেন মাহফিজুল।
ক্রিকেটের প্রতি প্রবল টান থাকলেও ছোটবেলায় মাহফিজুলের ভাবনায় ছিল পড়াশোনা করে চাকরি করা, সংসারের হাল ধরা। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ক্রিকেটের প্রতি যে ভালোবাসা জন্মেছিল, তা আর চাপা দিয়ে রাখতে পারেননি।
পরিবারের কাউকে না জানিয়েই বড় বোন পপি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন তিনি। টিফিনের টাকা জমিয়ে ক্রিকেট শেখার সেই যাত্রা অবশ্য বেশিদিন গোপন থাকেনি। লুকিয়ে অনুশীলন করতে গিয়ে একসময় ধরা পড়ে যান মাহফিজুল। তাকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বসে সালিশও।
তবে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি তিনি। এই কঠিন সময়ে বড় বোন পপি আক্তার ও দুলাভাই জাহাঙ্গীর আলম হয়ে ওঠেন তার সবচেয়ে বড় ভরসা।
২০১৫ সালে দিনাজপুর বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর ক্রিকেট নিয়ে পরিবারের সমর্থনও বাড়তে থাকে। ছেলের স্বপ্ন পূরণে মা রহিমা বেগমের ত্যাগও ছিল অসাধারণ। নিজের চোখের চিকিৎসার জন্য টাকা জমিয়ে রেখেও ছেলের জন্য ব্যাট কিনে দিয়েছিলেন তিনি।
পরিবারের ত্যাগ, বোন ও দুলাভাইয়ের সমর্থন আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে এগিয়ে গেছেন মাহফিজুল। টিফিনের টাকা জমিয়ে যে স্বপ্নের শুরু, জাতীয় ক্রিকেট লিগে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেই পথচলায় যোগ করলেন স্মরণীয় এক অধ্যায়।
