Published on
:
1 min read
এই সময়, ব্যারাকপুর: উৎসবের আলোয় যখন সাজছে গোটা বাংলা, ঢাকের আওয়াজে যখন মেতে ওঠার কথা শহর থেকে মফস্সল, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিভে গেল তিনটি তাজা প্রাণ। বোধনের সকালের আনন্দ পাল্টে গেল বুকভাঙা কান্নায়। মহাষষ্ঠীর ভোরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ব্যারাকপুর আমবাগান চত্বরে বেপরোয়া গতির জেরে মৃত্যু হলো এক দম্পতি-সহ তিনজনের।
শুক্রবার ভোরে সোদপুর থেকে নৈহাটির দিকে প্রবল গতিতে ছুটছিল একটি হুন্ডাই ভার্না ও একটি মহিন্দ্রা থর। ব্যারাকপুর আমবাগানের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর পর দাঁড়িয়ে থাকা তিন-চারটি গাড়িতে আছড়ে পড়ে সেগুলি। দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাইককেও তীব্র গতিতে পিষে দেয় গাড়িগুলি। সংঘর্ষের অভিঘাতে গাড়িগুলি উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গাড়িতে থাকা দম্পতি অরিন্দম গোস্বামী (৩৯) ও সঙ্গীতা গুহর (৩৩)। প্রাণ হারান বিশাল শর্মা নামের বাইক আরোহী এক যুবকেরও। পুজোয় নতুন জামা গায়ে মেতে ওঠার বদলে তাঁদের নিথর দেহ পৌঁছল মর্গে। গত দু-তিন দিনের মধ্যে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে রাতের অন্ধকারে বেপরোয়া গতির জেরে প্রাণ হারালেন মোট চার জন। উৎসবের আবহে এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়ের ট্র্যাফিক নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ও ভোরে এই চওড়া রাস্তা কার্যত রেস ট্র্যাকে পরিণত হয়। পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, ‘দিনের বেলা স্পিড লিমিট নজরদারিতে ক্যামেরা কাজ করে, জরিমানাও হয়। কিন্তু রাতের ফাঁকা রাস্তায় নিয়ম ভাঙাকে কিছু চালক প্রায় নেশা বানিয়ে ফেলেছেন।’
