ভূরাজনীতি থেকে সংস্কৃতি, বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে প্রযুক্তি ধনকুবেরদের একক নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে সংগীতের বাজারে এআইয়ের অনুপ্রবেশ, সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের ঝুঁকি।
ইউক্রেইন যুদ্ধে স্টারলিংক নেটওয়ার্ক সীমিত করা থেকে শুরু করে সংগীতের বাজারে এআইয়ের অনুপ্রবেশ প্রযুক্তির এই নিয়ন্ত্রণ ও আগ্রাসন বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে এক নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যতের দিকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, বিশ্বের বৃহত্তম স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী কোম্পানি স্পেসএক্সের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ইলন মাস্কের অবকাঠামোগত প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার ভয়াবহ হামলার মুখে ইউক্রেইনে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের গতি কমে যাওয়ার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মাস্কের কক্ষপথ-মালিকানা
সামরিক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট সংযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়েছে ইউক্রেইন। দেশটির সামরিক বাহিনী মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের জন্য তৈরি বিশেষ স্যাটেলাইট সেবা ‘স্টারশিল্ড’-এর ওপর নির্ভর করে।
সম্প্রতি চালু করা নতুন বিধিনিষেধের ফলে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলা যান বা বস্তুর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউক্রেইনের ড্রোনসহ দেশটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কিছু অংশও এর আওতায় পড়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে এই সেবা সীমিত করায় ইউক্রেইনের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়।
রাশিয়ার ড্রোনগুলো ঘণ্টায় প্রায় ২০০ মাইল গতিতে ওড়ে। স্টারলিংকের সংযোগ সুবিধা ছাড়া ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের পক্ষে সেগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রাণহানি ঘটবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেইন নীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের চাপ ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কির অভিযোগ, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে ইউক্রেইনকে আগাম সতর্কবার্তা বা তথ্য দেয়নি।
এদিকে, স্টারশিল্ডের এই সমস্যায় নিজের কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করে এক বার্তায় মাস্ক বলেছেন, “বিষয়টি স্পেসএক্সের নিয়ন্ত্রণে নেই।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেইনে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবার গতি কমানোর নির্দেশ সরাসরি হোয়াইট হাউস থেকে এসেছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
তিনি বলেছেন, “আমি জানি না এমন ঘটনা কে ঘটিয়েছে। তবে এটা আমি করিনি এবং আমার মনে হয় না, এ কাজ ইলন করেছে। আমার জানা মতে, পরিস্থিতি আগের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, “হোয়াইট হাউসের কেউই কাউকে ইন্টারনেট সংকুচিত করার বা গতি কমানোর কোনো নির্দেশ দেয়নি।”
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মাস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তার এই অস্বীকৃতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাস্ক ও স্পেসএক্সকে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা করে দেখা কঠিন।
এক বছর আগের রাজনৈতিক দ্বন্দ কাটিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে নতুন করে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স
এক বছর আগের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কাটিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে আবারও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন মাস্ক। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতেও তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশে দেখা গেছে।
এ ছাড়া পেন্টাগনের ভবিষ্যৎ যুদ্ধসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশনে জায়গা পাওয়ার পাশাপাশি রক্ষণশীল রিপাবলিকান প্রার্থীদের পেছনে কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন মাস্ক।
তবে ইউক্রেইন যুদ্ধ চলাকালে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে স্টারলিংক সেবা সীমিত করার নজির মাস্কের আগেও রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর খেরসন ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ চালানোর সময় স্টারলিংক সেবা স্থগিত করেছিল স্পেসএক্স।
একই বছর ক্রিমিয়া অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ানোর জন্য ইউক্রেইনের করা আবেদনও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মাস্ক।
একজন প্রযুক্তি ধনকুবেরের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের যুদ্ধের গতিপথ বদলে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা এখন কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে।
অনেকের মতে, মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে মাস্কের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা ইউক্রেইনের ওপর এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করছে। এর চূড়ান্ত পরিণতি হতে পারে রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হওয়া।
এআই তৈরি গান নিয়ে সংগীতশিল্পী ও ভক্তদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংগীতজগতের বেশ কয়েকজন শিল্পী এআই দিয়ে তৈরি গান ও সুর নিয়ে কথা বলেছেন। প্রযুক্তিটির ব্যবহার পুরোপুরি নাকচ না করলেও তারা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।
প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে পরিচিত শিল্পী ও সুরকার গ্রাইমসও তাদের একজন।
অন্যদিকে, শ্রোতারা এই কৃত্রিম সুরের চেয়ে প্রথাগত ও মূল বাদ্যযন্ত্রের সংগীতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। সে কারণে বিলবোর্ড চার্টগুলোতে এনালগ সুরের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে ও প্রযুক্তিনির্ভর সংগীদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে।
র্যাপার এএসএপি রকি ও গ্রাইমস দুজনই এ বিষয়ে একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছেন। তারা এআই প্রযুক্তির অস্তিত্ব মেনে নিলেও নিজেরা গান তৈরিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন না।
এএসএপি রকি বলেছেন, “আমি নিজ হাতে গান তৈরি করতেই বেশি পছন্দ করি। কেউ যদি কেবল নির্দেশ দিয়ে শতভাগ এআইনির্ভর গান তৈরি করে, তবে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। এটা ঠিক নাকি ভুল, সেই বিচার করার আমি কে? আমি কেবল আমার গানগুলো প্রচলিত ও সঠিক নিয়মেই তৈরি করে যেতে চাই।”
দীর্ঘ ছয় বছর পর নিজের নতুন অ্যালবাম ‘সাই অপেরা’র প্রচারে নেমেছেন গ্রাইমস। অ্যালবামের গানের অনুভূতিকে তিনি ‘ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে সংগীতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘স্টেরিওগাম’ অ্যালবামটিকে ‘এআই অনুপ্রাণিত হলেও এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি নয়’ বলে বর্ণনা করেছে। অ্যালবামে কাজ করা তার ৭০ সদস্যের দলটির সৃজনশীলতাকে যন্ত্রের কাছে সঁপে না দিয়ে তাদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন গ্রাইমস।
তিন বছর আগেই নিজের কণ্ঠস্বর উন্মুক্ত লাইসেন্সের আওতায় এআই নিয়ে কাজ করতে আগ্রহীদের ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিজের অ্যালবাম তৈরির ক্ষেত্রে এআই এড়িয়ে গেছেন গ্রাইমস। এতে বোঝা যায়, প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী শিল্পীরাও সংগীত তৈরিতে মানুষের সৃজনশীলতা ও অংশগ্রহণের গুরুত্বকে আলাদা করে দেখছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়া এআইনির্মিত গান ‘বোম্বোক্ল্যাট ওয়াল্লাহি’র উদাহরণ টেনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সাময়িক কৌতূহল তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।
নিম্নমানের খাবার যেমন দ্রুত ক্ষুধা মেটালেও কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধার অনুভূতি ফিরিয়ে আনে, এআই দিয়ে তৈরি শিল্পকর্মের স্থায়িত্বও তেমন ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। এ কারণেই ইন্টারনেটে এআই দিয়ে তৈরি দুর্বল ও নিম্নমানের কনটেন্ট বোঝাতে ‘স্লপ’ শব্দটির ব্যবহার চলছে।
সংগীতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে শিল্পীদের দৃষ্টিভঙ্গি জটিল ও সূক্ষ্ম হলেও ভক্তদের একটি অংশ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তারা প্রযুক্তিনির্ভর সংগীতের বদলে মানুষের সৃজনশীলতাকে প্রাধান্য দিতে চান।
বিলবোর্ডের সাম্প্রতিক অ্যালবাম ও একক গানের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গান তৈরিতে অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল রূপান্তর এড়িয়ে চলার প্রবণতা রয়েছে। এর পরিবর্তে কণ্ঠ ও প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রনির্ভর গানগুলোই তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিচ্ছে।
বিলবোর্ডের ‘টপ ২০০’ অ্যালবাম তালিকার শীর্ষ ১০টির বেশিরভাগই অ্যানালগ সুর ও কণ্ঠনির্ভর। তালিকায় রয়েছে অলিভিয়া রদ্রিগোর ‘ইউ সিম প্রিটি স্যাড ফর এ গার্ল সো ইন লাভ’, এলা ল্যাংলির ‘ড্যান্ডেলিয়ন’, অলিভিয়া ডিনের ‘আর্ট অফ লাভিং’, টেইলর সুইফটের ‘লাইফ অফ আ শোগার্ল’, নোয়া কাহানের ‘গ্রেট ডিভাইড’ ও ‘স্টিক সিজন’ এবং মরগান ওয়ালেনের ‘আই অ্যাম দ্য প্রবলেম’।
একইভাবে ‘হট ১০০’ একক গানের তালিকার শীর্ষ চারটি গানেও প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রের প্রাধান্য দেখা গেছে। গানগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইফটের ‘পেশেন্ট জিরো’, ল্যাংলির ‘চুজিং টেক্সাস’, স্টেলা লেফটির ‘বস্টন’ ও ওয়ালেনের ‘বিন বাই নাও’।
১৯৬৫ সালে প্রকাশিত বিটলসের বিখ্যাত অ্যালবাম ‘রাবার সোল’ বিলবোর্ডের সাম্প্রতিক তালিকায় চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে। শ্রোতাদের একটি বড় অংশ এখন এমন এক সময়ের সংগীতের দিকে ফিরতে চাইছেন, যখন সংগীত তৈরিতে এআইয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না।
স্টারলিংকের সংযোগ সুবিধা ছাড়া ইউক্রেনীয় ইন্টারসেপ্টর ড্রোনের পক্ষে সেগুলোকে আকাশেই ধ্বংস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছবি: রয়টার্স
‘এআইয়ের যুগে আরও মানবিক হোন’
অন্যদিকে, প্যারিসের রাজপথে যখন বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ফরাসি সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্ট ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘হ্যাকিং বিগ টেক’ সম্মেলনেও প্রযুক্তির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বার্তা উঠে এসেছে।
সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনায় একটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এআই জোয়ারে টিকে থাকতে হলে মানুষকে ‘আরও মানবিক’ হতে হবে।
অনুষ্ঠানে লেখিকা নেওমি ক্লেইন বলেছেন, বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি এআইকে ‘সর্বজনীন অ্যাপ ও সত্য নির্ধারণের চাবিকাঠি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তার ভাষায়, “জ্ঞানকে একমুখী করা ও বুদ্ধিমত্তাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে বেঁধে ফেলার এই মানসিকতা স্পষ্টতই একটি ফ্যাসিবাদী ধারণা।”
প্রযুক্তি কোম্পানির কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই আয়োজিত এই বিরল সম্মেলনে এআইচালিত ভবিষ্যতের একটি বিষাদময় চিত্র তুলে ধরেন ক্লাইন।
তিনি বলেছেন, “সামনে সম্পদের চরম ঘাটতি দেখা দেবে ও অর্থনীতিতে মানুষের ভূমিকা কমে যাবে, যার ফলে তাদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো হবে।”
এই আগ্রাসন থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে তিনি বলেছেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আমরা যন্ত্র নয়, আরও বেশি মানবিক হতে চাই।”
প্রযুক্তির প্রতিবাদ হিসেবে রসাত্মক কিছু উদ্ভাবনী পদক্ষেপও এই সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। চিলির একটি অঞ্চলে একের পর এক এআই ডেটা সেন্টার গড়ে ওঠায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এই ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে স্থানীয় পরিবেশকর্মী জার্মেন সালাজার ও তার সম্প্রদায় এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন, যেখানে তারা তৈরি করেছেন ‘হিউম্যান চ্যাটবট’। যেখানে এআইয়ের বদলে মানুষেরাই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
এআই চ্যাটবটের ওপর মানুষের নির্ভরতা কমানো এবং পানি অপচয় ঠেকানোই তাদের উদ্দেশ্য।
ছোট শিশু থেকে শুরু করে প্রবীণদের নিয়ে গঠিত একটি দল বিশ্বজুড়ে অনলাইনে আসা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর হাতে লিখে দেয়।
কেউ যোগব্যায়ামরত কুকুরের ছবি চাইলে দলের কেউ একজন সেটি হাতে এঁকে দেন। কেউ ভালোবাসার সংজ্ঞা জানতে চাইলে উত্তর দেওয়া হয়, ‘অন্য কারও সুখ প্রত্যাশার আকাঙ্ক্ষাই হলো ভালোবাসা।’
প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে এই মানব চ্যাটবট চালুর এক দিনেই জমা পড়েছিল ২ হাজার ৩০০টি ছবির অনুরোধ, ১৩৫টি প্রেমের পরামর্শের আবেদন এবং জীবনের অর্থ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন।
প্রযুক্তি যখন মানুষের কাজ, চিন্তা ও সৃজনশীলতার আরও বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে, তখন এই উদ্যোগগুলো মনে করিয়ে দেয়, সব সমস্যার সমাধান যন্ত্রের হাতে তুলে দিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বরং মানুষের সৃজনশীলতা, পারস্পরিক যোগাযোগ ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ধরে রাখাই হতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলার অন্যতম উপায়।
