বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের প্রযুক্তি এবং ব্যবসা ও উৎপাদন বাড়ানোর উপযোগী অংশীদারত্ব প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে চীনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপস্থিতি বাড়লে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়াও সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ডে’ আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশটির শীর্ষ ব্যাংকগুলোর সামনে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর সুযোগ তুলে ধরতে ইনভেস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে নিজেদের সদর দপ্তরে এই আয়োজন করে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না (চায়না এক্সিম ব্যাংক)।
অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী আরও বলেন, "বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হলো আর্থিক সংযোগ স্থাপন। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী চীনা কোম্পানিগুলোর প্রয়োজন সহজ ও কার্যকর বাণিজ্য অর্থায়ন, যন্ত্রপাতি কেনার অর্থায়ন, চলতি মূলধন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সহায়তা। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণও এই প্রয়োজনীয়তার কথা বলে।"
অনুষ্ঠানে চীনের ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না, এগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না—যাঁরা সম্পদের হিসাবে বিশ্বের বৃহত্তম চারটি ব্যাংকের তিনটে। এ ছাড়া অবকাঠামো ও প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট ও শিল্পপ্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং কৃষিপ্রযুক্তি খাতের ২৬টি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিও এতে অংশ নেয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং। অনুষ্ঠানে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।
আয়োজনে ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার—বাংলাদেশ-চায়না ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এর বিপরীতে বাংলাদেশে এখনো কোনো চীনা ব্যাংক সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। অথচ চীনের সঙ্গে এর তুলনায় কম বাণিজ্য রয়েছে—এমন দেশ যেমন কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারেও চীনা ব্যাংকগুলো কাজ করছে।
আয়োজনে দেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিনিয়োগ খাত—চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) ও মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের সুযোগগুলোও তুলে ধরা হয়। এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীনা কোম্পানি ও তাদের অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভূমিকা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে নেটওয়ার্কিং পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিনিয়োগ, অর্থায়ন ও সম্ভাব্য যৌথ অংশীদারত্ব নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন।
চায়না এক্সিম ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং কাং বলেন, "চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সহায়তাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না পলিসি ব্যাংক হিসেবে তার বিশেষায়িত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অবকাঠামো, জ্বালানি, কৃষি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে আমাদের প্রায় ৪০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আমরা বস্ত্র ও স্বাস্থ্যসেবার মতো অগ্রাধিকার খাতে আরও বেশি শীর্ষস্থানীয় চীনা কোম্পানিকে সরাসরি বিনিয়োগে উৎসাহিত করব, যাতে অর্থায়ন বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবামুখী অর্থনীতির বিকাশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
