দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা ঢাকা ছেড়েছেন। এতে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেনি। চাল, ডাল, তেল, আটা, মাছ-মাংসসহ বেশির ভাগ পণ্য গত সপ্তাহের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর মহাখালী, তেজগাঁও কলোনি ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, ছুটির সময়ে বাজার তদারকি শিথিল থাকায় একশ্রেণির ব্যবসায়ী পণ্যের দাম কমাচ্ছেন না। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্রেতা কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। কিন্তু পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ আগের মতোই রয়েছে। চাল, তেল ও আটার মতো পণ্যের মিল পর্যায়ের সরবরাহমূল্য না কমায় খুচরা বাজারে দাম কমানোর সুযোগ নেই।
কারওয়ান বাজারের তুহিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রায়হান বলেন, এক মাস ধরে মুদি পণ্যের দাম বাড়তি। সম্প্রতি চালের কেজিতে প্রায় দুই টাকা বেড়েছে। পূজার ছুটিতে অনেক মানুষ বাড়ি চলে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা কমেছে। তবে লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
চাল, আটা ও ডালের দাম চড়া
বাজারে মাঝারি মানের বিআর-২৮ ও পাইজাম চাল মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরু বা মিনিকেট চালের দাম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। চায়না ইরি ও গুটি স্বর্ণা জাতের মোটা চালের কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। অন্যদিকে নাজিরশাইল চাল কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
আটার দামেও স্বস্তি নেই। খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত আটা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে আটার দাম গড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। খোলা ময়দা প্রতি কেজি প্রায় ৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের দামও বাড়তি। ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দামেও গত সপ্তাহের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
মোটা মসুর ডাল প্রতি কেজি ৯৫ থেকে ১১০ টাকা এবং ভালো মানের মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দাম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। অ্যাংকর ডাল খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং পাড়া-মহল্লার দোকানে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এ ডালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা কম ছিল। টিসিবির তথ্যমতে, এক মাসে ছোলার দাম বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।
মুরগির দাম অপরিবর্তিত, নাগালের বাইরে গরুর মাংস
মুরগির বাজারে বড় পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম এলাকাভেদে প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকা। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
নিত্যপণ্যের অন্যান্য বাজারের তুলনায় সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শসহ বেশির ভাগ সবজি প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং উচ্ছে ও ঝিঙা ৫০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
তবে নতুন ওঠা শীতকালীন সবজির দাম বেশি। প্রতি কেজি শিম কিনতে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা খরচ হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
তেজগাঁও এলাকায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন শাহ আলম। তিনি বলেন, বিক্রি কমে যাওয়ায় এখন আগের তুলনায় কম সবজি আনছেন। কারণ, বিক্রি না হলে সবজি পচে যায় এবং লোকসান গুনতে হয়।
কারওয়ান বাজারে মুদি পণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নুর হোসেন বলেন, বাজারে চাহিদা বাড়লে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সরবরাহ ভালো থাকলেও কিংবা ক্রেতা কমলেও তদারকির অভাবে দাম কমানোর উদ্যোগ দেখা যায় না।
