তাহফিজ শিক্ষাব্যবস্থাকে অবমূল্যায়ন বা তাহফিজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ছোট করে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমদ জাহিদ হামিদি। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষায় গভীর জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা সীমিত নয়। যথাযথ সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে তারাও চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও দেশের নেতৃত্বদানকারী পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার মেলাকা নগরীতে আয়োজিত হাফেজদের স্নাতক সমাপনী ও উলুল আলবাব শিক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা আহমদ জাহিদ বলেন, তাহফিজ শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্মজীবন পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য সুস্পষ্ট পথ তৈরি করা সরকার ও সমাজের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, তাহফিজ শিক্ষাকে কখনো অবমূল্যায়ন করবেন না। তাহফিজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ছোট করে দেখবেন না। আমাদের প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের দোয়ায় তারাও পেশাজীবী হয়ে উঠবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
তাহফিজ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার পর যেন উপযুক্ত স্বীকৃতির অভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে বাধ্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আহমদ জাহিদ বলেন, দেশের তাহফিজ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় তাহফিজ শিক্ষা নীতির ধারাবাহিকতায় ‘মালয়েশিয়া তাহফিজ সনদ ২.০’, ‘মালয়েশিয়া তাহফিজ স্বীকৃতি মানদণ্ড’ এবং জাতীয় তাহফিজ কাউন্সিল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দেশজুড়ে দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী কিন্ডারগার্টেন ও কেমাসের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার শিশু প্রাক-তাহফিজ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি মারার আওতাধীন ৫৮টি উলুল আলবাব মডেলের নিম্ন মাধ্যমিক বিজ্ঞান কলেজের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (এসপিএম) দেশের সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সব তাহফিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পন্ডক বা ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) পদ্ধতির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপপ্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও মনোযোগ তৈরি হয়, তা কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্পক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন। এ জন্য মারার (এমএআরএ), গিয়াটমারা এবং কুয়ালালামপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনআইকেএল) বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কার্যক্রম কাজে লাগানো হবে।
আহমদ জাহিদ বলেন, কুরআনে হাফেজ একজন চিকিৎসক যখন দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে রোগীর চিকিৎসা করবেন কিংবা একজন হাফেজ প্রকৌশলী যখন সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাবেন, তখন তা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, জ্ঞান আমাদের দক্ষ করে তোলে, কিন্তু মূল্যবোধ নির্ধারণ করে সেই দক্ষতা কীভাবে ব্যবহার করা হবে।
আহমদ জাহিদ জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার পেশাজীবী হাফেজ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনার আওতায় চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা ও দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে।
তিনি বলেন, ধর্মীয় জ্ঞান ও আধুনিক পেশাগত দক্ষতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রজন্ম দেশের উন্নয়ন এবং সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
উপপ্রধানমন্ত্রীর মতে, তাহফিজ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা, স্বীকৃত যোগ্যতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারা ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হবে।