আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান-কাণ্ডে আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিকাঠামোগত ঘাটতির কথা ফের আরেকবার স্বীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দশমীর সকালে তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব থাকায় আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, স্থানান্তরের ফলে আহতেরা চিকিৎসা পেয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা আর বাড়েনি।
চোরবাগান-কাণ্ডের দিন রাতেই আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকেরা। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই বিতর্কের মধ্যেই সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মী নিয়োগের উপর জোর দেওয়া হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছ’মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি করতে আরও দু’বছর সময় লাগতে পারে।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রের পাশাপাশি রাজ্যের পুলিশবাহিনীতে কর্মীর ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ জনসংখ্যায় পুলিশকর্মীর সংখ্যা ১০৫। সর্বভারতীয় গড় ১৫৫ এবং উত্তরপ্রদেশে এই সংখ্যা প্রায় ২০০। পর্যাপ্ত নিয়োগ না হওয়াকে এই ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, পুলিশকর্মীর সংখ্যা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব বড় জমায়েতের নিরাপত্তা এবং বিপর্যয় মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। স্বাস্থ্য ও পুলিশ, দুই ক্ষেত্রেই পরিকাঠামোগত ঘাটতি পূরণে সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
