আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর আনন্দ পরিণত হল চরম বিষাদে। কলকাতায় ঠাকুর দেখতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন নদিয়ার চাকদহ পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়ার বাসিন্দা আরতি সরকার। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কলকাতা থেকে শববাহী গাড়িতে করে তাঁর মৃতদেহ চাকদহের বাড়িতে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরাও। গোটা এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার স্বামী রাম সরকার এবং শালিকার মেয়ে প্রতিভা সিকদার সঙ্গে নিয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান এলাকার একটি দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন আরতি সরকার। মণ্ডপে প্রবেশের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। এরপরই মণ্ডপ চত্বরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। সেই পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন রাম সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় আরতির।
অন্যদিকে, প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করতে থাকেন রামের শ্যালিকার মেয়ে প্রতিভা। সেই সময় এক ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে টেনে ভিড়ের বাইরে বের করে আনেন। কোনও ক্রমে প্রাণে বেঁচে ফেরেন তিনি। তবে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি এখনও তাঁকে আতঙ্কিত করে তুলছে। প্রতিভার জানান, বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তাঁরা ছুটতে শুরু করেন। কোনও ক্রমে তিনি মণ্ডপের ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপরই চারদিকে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার করছিলেন তিনি। সেই সময় এক ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে টেনে বাইরে বের করে আনেন। তারপর কী ঘটেছিল, তা আর তাঁর জানা নেই। দুর্ঘটনার খবর চাকদহের নতুনপাড়ায় পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে।
রবিবার সকালে মৃতার বাড়িতে আসেন তাঁর দিদি ভারতী প্রামাণিক এবং দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা প্রতিভা। মাসির মৃত্যুর খবর এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। আরতির এই মৃত্যুতে শোকাহত প্রতিবেশীরাও। প্রতিবেশী ববিতা বিশ্বাস জানান, বাড়ি থেকে বেরনোর আগে আরতির সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়েছিল। কথায় কথায় কল্যাণীতে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও উঠেছিল। পরে টেলিফোনে আরতি তাঁকে জানান, তাঁরা কলকাতায় এসেছেন। প্রতিদিনের ওঠাবসা ও দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কারণে আরতির সঙ্গে প্রতিবেশীদের গভীর সম্পর্ক ছিল। কান্নাভেজা কণ্ঠে ববিতা বলেন, “সারাদিন আমাদের ওঠাবসা ছিল। ওর এই মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। ঠাকুর দেখতে গিয়ে এভাবে প্রাণ চলে যাবে, ভাবতেই পারছি না।”
অন্যদিকে, মেয়ে প্রতিভা প্রাণে বেঁচে ফিরে আসায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকার প্রশ্ন তুলেছেন মৃতার দিদি ভারতী। তাঁর অভিযোগ, ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আগে থেকে পরিকল্পিতভাবে এবং নিয়ম মেনে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হলে হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত।
