শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই আনন্দ, উৎসব আর সম্প্রীতির বন্ধন। চারদিকে যখন পূজার আলো, ঢাকের বাদ্য আর উৎসবের উচ্ছ্বাস, তখন সেই আনন্দের ভাগ পেতে অপেক্ষায় থাকে সমাজের অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষও। নতুন পোশাকের অভাবে যাঁদের উৎসবের আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে আসে, তাঁদের মুখেও হাসি ফোটাতে এবার মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল কমলগঞ্জের লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপ। নতুন বস্ত্র পেয়ে আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল দুই শতাধিক মানুষের মুখ। তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠল প্রাপ্তির আনন্দ, আর উৎসবের আবহে ছড়িয়ে পড়ল ভালোবাসা ও মানবিকতার উষ্ণতা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর পতনঊষার ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার। পূজামণ্ডপের উপদেষ্টা প্রমোদ রঞ্জন দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পিন্টু দেবনাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথিরা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উৎসবের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই যে তার প্রকৃত সৌন্দর্য, বস্ত্র বিতরণের এই আয়োজন যেন সেই বার্তাই দিল। নতুন পোশাক হাতে পেয়ে উপস্থিত সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। কারও কাছে এই পোশাক হয়তো একটি সাধারণ উপহার, কিন্তু যাঁদের সামর্থ্য সীমিত, তাঁদের কাছে এটি উৎসবের আনন্দকে পূর্ণতা দেওয়ার এক টুকরো ভালোবাসা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ২ নম্বর পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অলি আহমদ খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মিণী ও স্কুলশিক্ষিকা বিন্দু তালুকদার এবং কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন।
স্বাগত বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপের উপদেষ্টা ও কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ।
বক্তারা বলেন, উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষও তার আনন্দে শামিল হতে পারেন। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় করাই হওয়া উচিত উৎসবের মূল শিক্ষা।
তাঁরা আরও বলেন, সমাজের অসচ্ছল মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এমন উদ্যোগ শুধু তাঁদের প্রয়োজন পূরণ করে না, মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধকেও জাগ্রত করে। সম্প্রীতি ও মানবিকতার চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদারকে লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
দুর্গোৎসবের এই আয়োজন শেষ হলেও নতুন বস্ত্র পাওয়া মানুষগুলোর মুখের হাসি যেন রেখে গেল এক গভীর বার্তা—উৎসবের আলো তখনই সত্যিকার অর্থে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, যখন সেই আলোয় আলোকিত হয় সবার জীবন। লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপের এই মানবিক উদ্যোগ তাই কেবল বস্ত্র বিতরণের আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
