Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: একটি টোটোর উপরে দুটি চোঙ লাগানো। তাতে ভর্তি বই। টোটোর পিছনে ফ্লেক্সে লেখা, ‘ভ্রাম্যমাণ মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল বুক স্টল’। মাইক্রোফোন হাতে একদল কর্মীকে নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় হনুমানের কাহিনি বর্ণনা করছেন–‘কী ভাবে হনুমান শারীরিক ভাবে রোগা হয়ে পড়েছিল––জানতে ‘হনুমানের স্বপ্ন’ পড়ুন।...হনুমান কী ভাবে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিল––জানতে ‘হনুমানের স্বপ্ন’ পড়ুন।’
পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালের উখড়াতে সিপিএমের পার্টি অফিস থেকে শনিবার সকালে বেরিয়ে পড়ে বই বোঝাই টোটো। পাণ্ডবেশ্বর ও রানিগঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় চক্কর কেটে টোটো যখন উখড়ায় ফেরে তখন এই ভ্রাম্যমান বুক স্টলে গুটি কয়েক বই রয়েছে। গৌরাঙ্গের কথায়, ‘তিন–সাড়ে তিন ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। রাজশেখর বসুর লেখা ৫০ কপি ‘হনুমানের স্বপ্ন’ ছিল–সব বিক্রি হয়ে গিয়েছে। গোর্কি, রাহুল সাংস্কৃত্যায়ন থেকে মার্কস, লেনিনও বিক্রি হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির দলিলের একটি সেট ছিল তাও বিক্রি হয়েছে।’ যদিও বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসুর কটাক্ষ, ‘যে দলের নেতারা ধর্মকে আফিম বলত তাঁদের এখন বই বিক্রি করতে ভগবান বজরংবলীর শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এটা দেখে ভালো লাগছে।’
শারদোৎসবের বুক স্টল নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সংঘাত চলছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএম, সিপিআই, সিপিআইএমএল (লিবারেশন), এসইউসিআই (সি) সহ বাম দলগুলির স্টলে লাগাতার হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। কিছু জায়গায় পদ্ম শিবিরে বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠলেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শুক্রবার জানিয়েছেন, বামেদের বুক স্টলে হামলার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। শমীক বলেন, ‘শাসক দলের নাম ব্যবহার করে কোথাও যদি এই ধরনের নিন্দনীয় ঘটনা ঘটানো হয় তা হলে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিবাদ করুন।’ যদিও পুলিশ গিয়ে বামেদের স্টল খুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ বেশি উঠছে। যাদবপুরে ৮বি বাস স্ট্যান্ডের কাছে শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ পে–লোডার নিয়ে সিপিএমের স্টল তুলতে গেলে সুদীপ সেনগুপ্ত সহ সিপিএম নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের তুমুল বচসা হয়। এক পুলিশ অফিসার যাদবপুরের স্টল সরিয়ে নেওয়ার কথা বলায় তা খারিজ করে দেন সুদীপ সহ সিপিএম নেতৃত্ব। কেন শুধু সিপিএমের বুক স্টল সরাতে বলা হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ওই অফিসার। সুজন চক্রবর্তী সহ সিপিএম নেতারা এ দিন যাদবপুরে যান। গান গেয়ে, কবিতা পাঠ করে সিপিএম নেতা–কর্মীরা রাত পর্যন্ত প্রতিবাদ চালান। ওখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীও নামানো হয়েছে।
ঢাকুরিয়াতেও পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার কর্মীরা গিয়ে বামেদের স্টল ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদারের কথায়, ‘কলকাতা জেলা কমিটির অন্তর্গত এলাকায় মোট ১১৯ টি স্টল হয়েছে। হামলা, ভাঙচুরের কারণে তিন–চারটি স্টল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অন্য স্টলগুলি চালু রয়েছে। তবে যাদবপুর সহ একাধিক জায়গায় পুলিশ গিয়ে স্টল খুলে দেওয়া অথবা সরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে।’
পুলিশ একাধিক স্টল ভেঙে দেওয়ার প্রতিবাদে বাম দলগুলি মিছিল করে ঢাকুরিয়া ফ্লাইওভারের গায়ে প্রতিবাদ সভাও করে। এই প্রেক্ষাপটে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য গৌরাঙ্গ অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য মানুষের কাছে মার্কসীয় সাহিত্য থেকে রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দেশে–বিদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিকদের রচনা পৌঁছে দেওয়া। ইতিহাস, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব সব ধরনের বই মানুষের সামনে তুলে ধরা। টোটোতে ভ্রাম্যমান বুক স্টল করে সেই লক্ষ্যে আমরা সফল।
