নিজেদের ভাগ্য বদলাতে সুদূর রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কে জানত, সেই রাশিয়াই হয়তো হতে যাচ্ছে তাঁদের জীবনের শেষ ঠিকানা! টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন যুবকসহ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ১৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর এসেছে। গোপালপুরের ওই তিন যুবক হলেন মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্র সূত্রধর, দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম ও বীর নলহরা গ্রামের নজরুল ইসলাম।
জানা যায়, কেউ ব্যবসায় লোকসান করে, কেউ জমি বন্ধক রেখে, আবার কেউ ধারদেনা করে একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাঁদের পরিবারের দাবি, নির্মাণকাজে চাকরির আশ্বাসে বিদেশে গেলেও পরে তাঁদের জোরপূর্বক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
গত ১৪ অক্টোবর স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) জানায়, জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপের মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়া ৩০ বাংলাদেশির প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে আসে। ওই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলেও জানানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মে তিন যুবক তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলার সুযোগ পান। সেই সময় তাঁরা জানান, তাঁদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। তাঁদের শরীরে প্রায় ৪৫ কেজি ওজনের সামরিক পোশাক ও সরঞ্জাম রয়েছে বলেও জানান তাঁরা। শেষ ফোনালাপে তাঁরা বলেন, “আমরা আজকেও মরতে পারি, কালকেও মরতে পারি। তোমরা আমাদের মাফ করে দিও, আমাদের জন্য দোয়া করিও।” এরপর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
জামালপুরের আদনান নামের এক সহযাত্রীর মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁদের দলের ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে গোপালপুরের তিন যুবকও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পরিবারগুলোর দাবি, তিন যুবকই ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র বা অন্যতম কর্মক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের কারও দুই সন্তান, কারও তিনজন, আবার কারও একাধিক সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য কেউ ১০ লাখ, কেউ ১৫ লাখ, আবার কেউ প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ করেছেন। এখন স্বজনদের মৃত্যুর খবর ও অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো।
পরিবারগুলোর আকুতি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের স্বজনদের প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত করুক। তাঁরা জীবিত থাকলে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক, আর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
-20261024160254.jpg&w=1440&q=75)