সাবেক মন্ত্রী ও শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমান উল্লাহ আমান এমপি বলেছেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে বারবার গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে আবারও হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে উপস্থিত জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমান উল্লাহ আমান। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত তৎকালীন ছাত্রদল নেতা জেহাদের গ্রামের বাড়িতে যান তিনি।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে নিতে হবে।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, দেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান বিএনপি সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে সুখী-সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ যখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, তখন ঘাপটি মেরে থাকা গুপ্ত ও ফ্যাসিস্ট শক্তি একযোগে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে বাংলাদেশের জনগণ রক্তের বিনিময়ে যে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, তা কখনোই ভুলুণ্ঠিত হতে দেবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, সেই গণতন্ত্রের অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। যেকোনো ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বাংলাদেশের জনগণ এগিয়ে যাবে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।’
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এমপি ও খাইরুল কবির খোকন এমপি, বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর ইসলাম বাচ্চু, জেলা বিএনপির সহসভাপতি কে এম শরফুদ্দিন মঞ্জু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল সরকার ও জাহিদুল ইসলাম মিষ্টার এবং শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উল্লাপাড়া শাখার সভাপতি ওবাইদুল ইসলাম মাহবুবসহ স্থানীয় নেতারা।
এর আগে আমান উল্লাহ আমান শহীদ জেহাদের কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে তার বাড়ির সামনের সড়কে কয়েকটি গাছ রোপণ করেন এবং মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।
