মাত্র একমাস আগেও জানা ছিল না, তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ার আদৌ থাকবে কিনা। আর কোনওদিন ব্যাট হাতে বাইশ গজে নামতে পারবেন কিনা। নিরাশার অন্ধকারেও কিন্তু মনের জোর হারাননি অভিষেক পোড়েল। বরং নিজেকে শক্ত রেখে অপেক্ষা করেছেন একটা সুযোগের। অবশেষে সুযোগ এল রনজির মঞ্চে। ধর্ষণের অভিযোগে ৩৬ দিন কারাবাসের পর প্রথমবার ব্যাট করতে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন বাংলার জার্সিতে।
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস-সহ একাধিক অভিযোগ বিদ্ধ হয়েছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। ধর্ষণ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তারির নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন অভিষেক। প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। তারপর সেই মেয়াদটা বেড়ে দাঁড়ায় একমাসে। ৩৬ দিন জেলে কাটানোর পর অবশেষে ১৭ সেপ্টেম্বর জামিন মেলে। কিন্তু ততদিনে রনজির জন্য বাংলার প্রাথমিক দল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। অভিষেক জায়গা পাননি।
জামিন পাওয়ার পর দেরি না করে অভিষেক যোগ দেন বাংলা শিবিরে। হেডকোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা থেকে শুরু করে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সকলের সহযোগিতায় তরুণ তুর্কি ফেরেন ক্রিকেট মাঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং প্র্যাক্টিস করেছেন। নিজেকে বুঝিয়েছেন, তাঁর পরিচয় স্রেফ ক্রিকেটেই। তাই ক্রিকেটের মাধ্যমেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাঁর হয়ে কথা বলব ব্যাটই। সেটাই হল সোমবার। ১০৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়া দলকে দিনের শেষে লিড এনে দিলেন ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে। শতরান হাঁকানোর পর না চাইতেও কান্নায় ভেঙে পড়লেন ২৩ বছরের তরুণ তুর্কি।
দিনের শেষে ১১৪ রানে অপরাজিত অভিষেক। লক্ষ্মী-সৌরভদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলছেন, “ওই সময়টা অনেকেই পাশে ছিল। ঈশান কিষান, অভিষেক শর্মারা ফোন করেছে, সাহায্য করতে চেয়েছে। কোচরাও সকলে আমাকে বেশি সময় ধরে অনুশীলন করিয়েছেন। ওই অন্ধকার সময়টা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। তবে আমি নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেছি। সেঞ্চুরি করার পর কাঁদতে চাইনি, তবে আবেগের বশে চোখে জল এসে গিয়েছিল।” ধর্ষণের অভিযোগ এখনও ঝুলছে তাঁর মাথার উপর। কিন্তু ক্রিকেটে কামব্যাক করে ফেললেন তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার।
