ষষ্ঠ শ্রেণির ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রণীত ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি নিয়ে বিতর্ক ওঠার পর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) এক কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়ির সরকারি মহিলা কলেজে বদলি করা হয়েছে।
রোববার (২৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তার নাম মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের। তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) প্রেষণে গবেষণা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতেন। তাকে খাগড়াছড়ির সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে তাদের নামের পাশে বর্ণিত পদ ও কর্মস্থলে বদলি বা পদায়ন করা হলো। বর্ণিত কর্মকর্তারা আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হবেন।
আরও বলা হয়, তার বদলি একই তারিখ অপরাহ্নে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হবেন মর্মে গণ্য হবে। বর্ণিত কর্মকর্তা আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ পিডিএসে লগইন করে অবমুক্ত ও যোগদানপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞা বোঝাতে দাঁড়িপাল্লার ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর এই বইটির ছাপাগুলো আপাতত বন্ধ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ছাপানো সব বই পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র জানায়, এরই মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির এই বই প্রায় ২০ লাখ ছাপা শেষে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে। এখন এসব বই ফেরত আনা হচ্ছে। এসব বই ফেরত আনা, সংশোধন ও পুনমূদ্রণ করতে বড় অঙ্কের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি সময়ও ক্ষেপণ হবে। অথচ চলতি বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ের সব বই পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক আবু নাসের টুকু এশিয়া পোস্টকে গত ২৩ অক্টোবর বলেছিলেন, চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বইটি সংশোধন করে ফের পাঠাতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আমরা যথাসময়ের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে বই পৌঁছাতে পারব।
একটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক হওয়ার কারণেই দাঁড়িপাল্লার ছবি পরিবর্তন করা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।
তথ্যমতে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে চারটি স্তর রয়েছে। নিচ থেকে সেগুলো হলো উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে আলাদা প্রতীক।
উপাত্তের স্তরে রয়েছে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে রয়েছে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি প্রতীক। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছে দাঁড়িপাল্লার ছবি।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতোমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল। তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসে। এ নিয়ে বিতর্কের পর এবার প্রতীকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
