Published on
:
2 min read
এই সময়: দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহারে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পুজো কমিটিগুলিকে নোটিস পাঠালেও আলিপুরদুয়ার, মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরে এখনও চিঠি পাঠায়নি বিদ্যুৎ দপ্তর। আলিপুরদুয়ারে নোটিস না–পাঠিয়ে মৌখিক ভাবেই সতর্ক করা হয়েছে পুজো কমিটিগুলিকে। জলপাইগুড়িতে অবশ্য ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়েছে। শহরের ১৩৬টি পুজো পুজো কমিটি আগেই চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুতের জন্য আবেদন জানিয়েছিল। এর ফলে কোথাও বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয়নি। অর্থাৎ কারও আট কিলোওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন থাকলে সে ১০ কিলোওয়াটের আবেদন করেছিল। এতে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হলেও তা আবেদনের পরিমাণ ছাপিয়ে যায়নি। ফলে বিদ্যুৎ দপ্তরকে কাউকে নোটিসও পাঠাতে হয়নি, মৌখিক ভাবে সতর্কও করতে হয়নি।
শহরের দিশারী ক্লাব পুজো কমিটির সম্পাদক সত্যব্রত দে বলেন, ‘আমাদের বিগ বাজেটের পুজো। সুতরাং বিদ্যুতের চাহিদা ছিল বেশি। চাহিদার তুলনায় কিছুটা বাড়িয়ে ৬০ কিলোওয়াটের আবেদন জানিয়েছিলাম। বাস্তবে ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ খচরই হয়নি।’ সঙ্ঘমিত্রা ক্লাব পরিচালিত বিবেকানন্দপাড়া, পশ্চিম কেরানিপাড়া সংযুক্ত দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক রাজীব ঘোষের কথায়, ‘আমরা চাহিদার চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে দৈনিক চার কিলোওয়াট বিদ্যুতের আবেদন করেছিলাম।’ বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির এক আধিকারিক জানান, জেলায় কোনও পুজো কমিটি চাহিদার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করেনি। সেটা করলে ধরা পড়ত।
মালদায় এখনও পর্যন্ত কোনও পুজো কমিটিকে নোটিস পাঠানো হয়নি। খানিকটা জলপাইগুড়ির মতোই এই জেলায় কোনও পুজো কমিটির বিরুদ্ধে আবেদনের তুলনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের অভিযোগও পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ দপ্তরের মালদার রিজিওনাল ম্যানেজার মনোজিৎ দত্তের কথায়, ‘জেলার তিনটি ডিভিশন মালদা, চাঁচল এবং গাজোল মিলিয়ে প্রায় ৭০০টি পুজো কমিটি আবেদন জানিয়েছিল। কোনও পুজো কমিটি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেনি। তাই কাউকে নোটিস পাঠাতে হয়নি।’
উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও একই ছবি। রায়গঞ্জ শহর তো বটেই, অন্য জায়গাতেও এখনও পর্যন্ত বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফে নোটিস ধরানোর কোনও খবর নেই। শহরের অরবিন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক প্রদীপ্ত ঘোষ বলেন, ‘আমরা যা হিসেব দিয়েছিলাম, তার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়নি। বরং বেঁচে গিয়েছে।’ রায়গঞ্জের চৈতালি ক্লাবের পুজো কমিটির সম্পাদক সুদীপ্ত রাহা বলেন, ‘বরাদ্দ করা বিদ্যুতের মধ্যেই আমাদের পুজো সম্পন্ন হয়েছে।’ বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির জেলা রিজিওনাল ম্যানেজার মানুচন্দ্র বর্মন বলেন, ‘এখানে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের তেমন কোনও অভিযোগ আমরা পাইনি।’
তথ্য সহায়তা: দিব্যেন্দু সিনহা, সুজিত রায়, কৌশিক দে এবং নীলাঞ্জন দাস
