টানা ৩ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত
-->আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব তফশিলি ব্যাংক টানা তিন দিন ছুটি থাকবে। তবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে রবিবার (১১ অক্টোবর) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৭ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়, বন্দর ও কাস্টমস এলাকাভিত্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে ২০ থেকে ২২ অক্টোবরের সরকারি ছুটি এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
পতনের ভারে পুঁজিবাজার
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিকস
-->পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা থাকে, বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসবে। কিন্তু বাজারে যখন দিনের পর দিন দরপতন চলতে থাকে, তখন সেই প্রত্যাশার জায়গায় তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। নতুন করে বিনিয়োগের সাহস হারান অনেকে, আবার যারা আগে থেকেই বিনিয়োগ করে রেখেছেন, তাদের মধ্যেও বাড়ে লোকসানের শঙ্কা। দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা দরপতন ও অস্থিরতায় এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন-এই পতন থামবে কবে, বাজারে স্বস্তি ফিরবে কখন?
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দরপতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো জরুরি। শেয়ারদর কমতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ে। এতে নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতেও অনেকে সময় নেন। ফলে লেনদেন বাড়লেও বাজারে স্বস্তি ফিরছে কি না, তা বোঝার জন্য শেয়ার দরের গতি-প্রকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ। এখন বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, দরপতন কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং তারা আবারও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রবিবার (১১ অক্টোবর) দেশের পুঁজিবাজারে সেই স্বস্তির দেখা মেলেনি। দিনের শুরুতে সূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের চিত্র বদলাতে থাকে। মধ্যাহ্নের পর থেকে সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিনশেষে প্রধান সূচকসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে। তবে দরপতনের মধ্যেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
আরও পড়ুন
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৪.৫৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৫১.০৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস ৬.৬৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮০.৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে ডিএসইর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২.২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩.৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির শেয়ার দর বেড়েছে, ২৬৪টির কমেছে এবং ৪২টির দর অপরিবর্তিত ছিল। দর বেড়েছে এমন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দর হারানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।
তবে সূচকের পতনের বিপরীতে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এদিন বাজারটিতে মোট ৫৬৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। তার আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৫৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার। সেই হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। লেনদেন বাড়লেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমে যাওয়ায় বাজারের সামগ্রিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি।
আরও পড়ুন
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে আজিজ পাইপস লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেড়েছে। আগের কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৮৬ টাকা ৩০ পয়সা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা আনলিমা ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বাংলাদেশ পেপার প্রোডাক্টস লিমিটেড ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো সালাম ক্রিসেন্ট ফিনিশিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি, এবি ব্যাংক পিএলসি, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দরপতনের শীর্ষে রয়েছে এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। এদিন ফান্ডটির ইউনিট দর ১০ শতাংশ কমেছে। আগের কার্যদিবসে এর দর ছিল ৯ টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ দরপতন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দরপতনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানি ও ফান্ডগুলো হলো ফার্স্ট প্রাইম ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১, সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড।
আরও পড়ুন
ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেড। এদিন কোম্পানিটির ২৮ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জিকিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ইভিন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড ১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন কমেছে। গতকাল সিএসইতে ৯ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় এ বাজারে লেনদেন কমেছে।
সিএসইতে এদিন মোট ১৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টির দর বেড়েছে, ১২৩টির কমেছে এবং ২০টির দর অপরিবর্তিত ছিল। একই দিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২৫.৭১ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৬৩৫.২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কর্মদিবসে সূচকটি ৫.১৮ পয়েন্ট বেড়েছিল।
আরও পড়ুন
হিমাগারে আলু রেখে বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ী, কেজিপ্রতি লোকসান ৬ টাকা
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা। ছবি: খবরের কাগজ
-->হিমাগারে আলু সংরক্ষণে রেখে এখন কেজি প্রতি ৬ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। ভালো দামে আলু বিক্রির আশায় হিমাগারে আলু রেখে বিপাকে তারা। হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়ছে ২০ টাকা। অথচ সেই আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকা দরে। এতে কেজিতে ৬ টাকা লোকসান গুনছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, আলুর মৌসুমে তারা মাঠ থেকে ১০-১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনাবেচা করেছেন। আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করলে পরে ভালো দাম পাবেন, এমন আশায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না তারা। আর কিছুদিন পরই আবার নতুন আলু ওঠা শুরু হবে, এ পরিস্থিতিতে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু নিয়ে লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে বলে জানান তারা।
ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকার আলুচাষি মোজাফফর হোসেন বলেন, আলুর দাম কম থাকায় তিনি হিমাগারে আলু রেখেছিলেন। পরে দাম বাড়লে হিমাগার থেকে আলু তুলে বিক্রি করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সব মিলিয়ে এখন প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ২০ টাকা। আবার সেই আলু বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে কেজিপ্রতি ৬ টাকা করে লোকসান হচ্ছে তার।
আরও পড়ুন
রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ফারুক আহাম্মেদ জানান, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে তার পুঁজি হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন। আলুর দাম সামঞ্জস্য রাখতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পটুয়া এলাকার আলু ব্যবসায়ী সামসুজ্জোহা বলেন, এই সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বাজারে আসার কথা। কিন্তু বাজারে চাহিদা কম থাকায় সেভাবে আলু আসছে না। তার দাবি, এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে। দ্রুত বাজারজাত করা না গেলে লোকসান আরও বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুত রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ধীরগতিতে আলু বের হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
শাহী হিমাগারের ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, আলুর দাম কম থাকায় হিমাগার থেকে আলু বের হচ্ছে না। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
আরও পড়ুন
আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকরা জানান, আলু ওঠানো ও নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমেছে।
জেলা কোল্ড স্টোর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, ‘যেই বর্ধিত আলুটা হিমাগারে জমা পড়ে আছে সেটা যদি আমরা বের করতে না পারি তাহলে আলু যে একটা শিল্প হিসেবে তৈরি হয়েছিল ঠাকুরগাঁও জেলায়-এই শিল্প ধ্বংসে পরিণত হবে। এতে করে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে হিমাগার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্যবসায়ীরাও। পুরো সেক্টরই একটা হুমকির মুখে পড়বে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা হলেও কমবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে প্রতিবছর আলুর মোট চাহিদা প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ লাখ টন। এর মধ্যে মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে ব্যবহার এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য বীজ হিসেবে রাখার জন্য মূলত ৮০ লাখ টন আলুর প্রয়োজন হয়। বিপরীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দেশে আলুর উৎপাদন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি, যা বছরে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ থেকে ১ কোটি ১৫ লাখ টনে পৌঁছায়। চাহিদার অতিরিক্ত এই আলু কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয় এবং বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের হিমাগারগুলোতে আনুমানিক ৩৫ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষিত আছে। দেশের প্রায় ৩৫০টি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা ৬০ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে প্রায় ৫৮.৩ শতাংশ অংশ আলু দিয়ে পূর্ণ রয়েছে। এর মধ্যে আলু উৎপাদনকারী প্রধান বগুড়া জেলার ৫১টি হিমাগারে প্রায় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন খাবার ও বীজ আলু সংরক্ষিত রয়েছে, যার একটি বড় অংশ সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে খালাস করা হয়েছে। অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও জেলার ১৭টি হিমাগারের মোট আলু সংরক্ষণ ক্ষমতা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন এবং রংপুর অঞ্চলের হিমাগারগুলোয় মোট আলুর ধারণক্ষমতা ১১ লাখ ২৯ হাজার ৩৫ মেট্রিক টন।
আরও পড়ুন
দাউদকান্দিতে বিদেশি ফল প্যাশন চাষে সাফল্য
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে আবুল হাসান ফারুকের বাড়ির আঙিনায় গাছে ঝুলছে প্যাশন ফল। ছবি: খবরের কাগজ
-->কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের ইছাপুর গ্রামে চাষ হচ্ছে একটি সুস্বাদু বিদেশি ফল। বাইরের দেশে ফলটির সবচেয়ে পরিচিত নাম ‘প্যাশন’। তবে অঞ্চলভেদে এর ভিন্ন নামও আছে। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিচিত ‘পারপেল গ্রানাডিলা’ নামে। ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘প্যাসিফ্লোরা ইডিউলাস’। মিষ্টি স্বাদ ও উপকারিতার কারণে অনেক দেশেই ফলটি বেশ জনপ্রিয়।
তিন বছর আগে ইছাপুর গ্রামের মো. তাইজুল ইসলামের ছেলে মো. আবুল হাসান ফারুক বিশেষ আগ্রহ নিয়ে প্যাশন ফলের কয়েকটি চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেন। শুরুতে ছিল মাত্র চারটি চারা। পরিচর্যার পর সেই গাছগুলোই এখন ছড়িয়ে পড়েছে বাইরের আঙিনায় পুরো মাচাজুড়ে। তৈরি হয়েছে ছোট্ট একটি প্যাশন ফলের বাগান।
মো. আবুল হাসান ফারুক জানান, চারা লাগানোর এক বছর পর গত বছর অল্প কিছু ফল ধরেছিল। তবে এ বছর চারটি গাছে প্রায় ছয় শ ফল ধরেছে। এই বিদেশি ফল সম্পর্কে তিনি আরও জানান , যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অনেক দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফলটি চাষ হয়। বাংলাদেশে কুমিল্লায় আমিই প্রথম শখের বসে চাষ করি। তবে পরিকল্পিতভাবে চাষ করা গেলে এটি ভালো একটি আয়ের উৎস হতে পারে। ভবিষ্যতে বাগানটি আরও বড় করার ইচ্ছা আছে। এ পর্যন্ত তার বাগান থেকে দুই দফা ফলন পাওয়া গেছে। প্রতিবার প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি করে ফল সংগ্রহ করেছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে প্রতি কেজি প্যাশন ফল ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ফলে অল্প পরিসরের বাগান থেকেও ভালো দামের ফলন পাচ্ছেন তিনি।
আরও পড়ুন
তিনি আরও জানান, ছায়াযুক্ত স্থানে একটি প্যাশন ফলের চারা রোপণ করে নিয়মিত যত্ন নিলেই দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ফল পাওয়া সম্ভব। এ জন্য বাড়তি তেমন কোনো যত্নের প্রয়োজন নেই। খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফুল ও ফল পাওয়া যায়। একটি পরিপূর্ণ গাছ থেকে বছরে ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এ দেশের আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
স্থানীয় পেন্নাই গ্রামের বৃক্ষপ্রেমী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, শুরুতে ফলটি তাদের কাছে অপরিচিত ছিল। গাছের মাচায় ঝুলে থাকা গোলাকার ফল দেখে অনেকেই কৌতূহলী হয়ে বাগান দেখতে আসছেন। কেউ কেউ ফলের স্বাদ নিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের বাড়িতে চাষের ব্যাপারে পরামর্শ নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন
জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত পরিবেশবিদ সহকারী অধ্যাপক মতিন সৈকত বলেন, প্যাশন গাছে বছরে দুবার ফল ধরে। পূর্ণাঙ্গ ফল গোলাকার বা ডিম্বাকার। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ হয়। তবে পরিণত অবস্থায় হলুদ বা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে। ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন। এতে প্রচুর পরিমাণ প্রো-ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও আয়রন রয়েছে। এ ফলের জুস পটাশিয়ামের একটি বড় উৎস। ১০০ গ্রাম ফল খেলে ৯৭ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ক্যালসিয়াম রয়েছে ১২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ২৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম ও জিংক ০.১ মিলিগ্রাম। এ ফলটি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। হাঁপানি ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও এই ফল বিশেষ উপকারী।
ফলটি মিষ্টি স্বাদের হলেও বাংলাদেশের মাটিতে যে ফল জন্মেছে, তা কিছুটা টক। জীবপ্রযুক্তির মাধ্যমে এ ফলে মিষ্টি স্বাদ আনার চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন
উপজেলা সবজি ও ফল ব্যবসা সমবায় সমিতির সভাপতি এ আর আব্দুর রউফ বলেন, ঢাকার কিছু দোকানে এ ফল কিনতে পাওয়া যায়। এক কেজির দাম পড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। আমাদের দেশে এত টাকায় এ ফল কেনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
ড্রাগন ফলের মতো বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ শুরু করা গেলে দেশি ফলের সঙ্গে এই বিদেশি ফলের চাষ অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিগার সুলতানা বলেন, ‘উপজেলায় বিদেশি ফল প্যাশনের চাষ অনেক বাড়ির আঙিনায় হচ্ছে। আমরা সেই তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের বিদেশি ফল প্যাশন ও দেশি ফলের চারা দেওয়া হচ্ছে। উপসহকারীরা নিয়মিত মাঠে গিয়ে পরিচর্যার বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। নিয়মিত পরিচর্যা করলে এ ফলের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
আরও পড়ুন
এনবিআরের ৯৫ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি করা হবে
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম
খবরের কাগজ গ্রাফিকস
-->গত এক যুগ থেকে ঘাটতির বৃত্তেই আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে রাজস্ব ঘাটতি আর মেনে নেওয়া হবে না। অতীতের ধারা থেকে বের হয়ে নতুন কৌশল সামনে রেখে রাজস্ব আদায়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনবিআর একগুচ্ছ কর্মকৌশল নির্ধারণ করে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এনবিআর কর্মকর্তারা এসব কর্মকৌশল তুলে ধরেন। বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা পূরণে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়েও বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়।
চলতি অর্থবছরে এনবিআর তিনটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে হিসাব কষেছেন। এগুলো হলো–রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বহাল) এবং রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)।
আরও পড়ুন
পুনরুদ্ধার কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনর্বহাল কৌশলের মূল লক্ষ্য করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরি করা। পুনর্গঠন কৌশলের আওতায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং শুল্ক ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায় করতে হবে।
আরও পড়ুন
এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব খবরের কাগজকে বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছে। এরই মধ্যে সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নির্দেশে এনবিআর রাজস্ব আদায়ের কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে। এসব কর্মকৌশল সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
কর্মকৌশলে চলতি অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা আদায়ের হিসাব কষেছে এনবিআর।
আরও পড়ুন
এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টলিজেন্স সেল (সিআইসি), আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ, আইআইসি এবং কর সার্কেলের মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের কর্মকৌশলে উল্লেখ আছে, ‘আয়কর আইনের ২১২ ধারায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে ১ হাজার কোটি টাকা এবং বিলম্বে আয়কর রিটার্ন জমা খাতে ৫০০ কোটি টাকা আদায়ে হিসাব করা হয়েছে। এ ছাড়া নীতিগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ করহার পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার চালুর মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ে হিসাব করা হয়েছে।’
এনবিআরের কর্মকৌশলে আরও উল্লেখ আছে, ‘বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে ১ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। করদাতাদের জন্য টার্নওভার কর চালুর মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী করদাতাদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও হিসাবের বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক করে ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
কর্মকৌশলে উল্লেখ আছে, ‘ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিজনেস-টু-বিজনেস) মডেলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে উৎসে কর আদায়ের মাধ্যমে ৭ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হবে। আবাসন খাত থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা এবং জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য মূলধনি সম্পদ বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর নিয়মিত করহার প্রয়োগ করে ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ে প্রত্যাশা করছে এনবিআর।’
কর্মকৌশলে ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ও পরিপালনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বাস্তবায়ন বাড়ার ফলে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিড়ি ও সিগারেটসহ তামাক খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
কর্মকৌশলে বলা হয়েছে, ‘ভ্যাট বিভাগের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার ৫০ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে অনিষ্পন্ন মামলার অন্তত ৯৫ শতাংশ নিষ্পত্তি করা।’
কর্মকৌশলে শুল্ক খাতে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, ‘চলতি অর্থবছরে শুল্ক খাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা। নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা থেকে ৫০০ কোটি টাকা, নিলাম থেকে ৫০০ কোটি টাকা, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’
