সম্প্রতি, ‘হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী মুসলীম’ দাবিতে একটি ভিডিও এবং ‘মন্দিরসহ হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিও দুইটির একটিও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার দৃশ্য নয়। দুইটি ভিডিওই ভিন্ন ঘটনার।
ভিডিও যাচাই-১
‘হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী মুসলীম’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে Chenginews24.com নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ০৩ আগস্ট প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর সাথে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।
পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘লংগদুর গাঁথাছড়ায় সোমবার সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনীর তড়িৎ পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।’
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নয়া দিগন্তের ওয়েবসাইটে গত ০৩ আগস্ট প্রচারিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ০৩ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ৬ নম্বর মাইনিমুখ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাঁথাছড়া এলাকার ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুরুতে ব্যবসায়ী আলালের কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে আগুন পাশের তরিকুল বাদশা ও রাসেলের ফার্নিচার কারখানা এবং বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে তিনটি কারখানা, দু’টি বসতঘর, মূল্যবান যন্ত্রপাতি, কাঠ ও আসবাবপত্রসহ সবকিছু পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী তরিকুল বাদশা বলেছিলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কারও ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ নেই।’
একই তথ্যে সংবাদ প্রকাশ করেছিল মূলধারার একাধিক গণমাধ্যম (১, ২, ৩) ও একই তথ্যে তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফেসবুক পেজ থেকেও পোস্ট করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, গত ০৩ আগস্ট বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ফার্নিচারের দোকানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ৬ নম্বর মাইনিমুখ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাঁথাছড়া এলাকা। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আলাল, তরিকুল এবং রাসেল নামের তিন ব্যক্তির দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অতএব, সেই ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই।
ভিডিও যাচাই-২
‘মন্দিরসহ হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন’ শীর্ষক ক্যাপশনে যে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে সেটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে গিয়ে দেখা যায়, একই ভিডিও পূর্বেও ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হয়েছিল। তখন ভিডিওটি ‘নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কাউসারের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে’ দাবিতে প্রচার করা হয়েছিল। সেটি যাচাই করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল কালবেলা। পড়ুন- এখানে।
কালবেলা তখন যাচাই করে দেখেছে, ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কিংবা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত,গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পর আরও ৩ আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা। পরবর্তীতে ২৬ সেপ্টেম্বর আরও এক অভিযুক্তের বাড়িতে এলাকাবাসী আগুন দেয়। সেই ঘটনার দৃশ্য এটি।
অর্থাৎ, এই ভিডিওর সাথেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই।
