ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৯২ নম্বর শ্যামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের সংকট ও খেলার মাঠ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। ১১৩ শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য রয়েছে মাত্র দুই কক্ষের একটি ভবন। এতে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনের দুটি কক্ষ নিজ খরচে সংস্কার করে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে, খেলার মাঠের জায়গায় রয়েছে পুকুর। এতে খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা, পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিদ্যালয়টি সদরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে অবস্থিত। ১৯৮৮ সালে ৫০ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা সংকটের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১১৩ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছে দুই কক্ষের একটি ভবন। শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম হওয়ায় পাঠদান পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের। বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের দুটি কক্ষ নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে সংস্কার করে ব্যবহার করছেন তারা। তবে ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সেখানে পাঠদান কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবর্ণা আক্তার বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের দুটি কক্ষ সংস্কার করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এ ছাড়া খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন।
সহকারী শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু বিদ্যালয়ে খেলার কোনো মাঠ নেই। মাঠের জায়গায় পুকুর থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসন ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ১১৩ শিক্ষার্থীর জন্য দুই কক্ষের একটি ভবন পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে পরিত্যক্ত ভবনের দুটি কক্ষ সংস্কার করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। অবকাঠামোগত সংকটের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে পাঠদানের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সংকট নিরসন, পরিত্যক্ত ভবনের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
