ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আহমদের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম ওমর হায়দারের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ফলে মামলায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশুকে গত ১৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানের নিচতলার সিঁড়িতে যৌন নিপীড়ন করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে ওই মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
আদালতে শিশুটির জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে ওই বক্তব্যসহ অন্যান্য তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। বিষয়টি জানতে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে পারেননি। পরে মা-বাবার কাছে শিশুটি ঘটনার কথা জানায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর ২১ অক্টোবর শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষকের ওপর মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবার করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধরের কয়েকটি দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে। এসব দৃশ্য প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য বা দৃশ্যের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।
শিশুর নিরাপত্তা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ—এ তিনটি বিষয় এখন ঘটনাটিতে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে যথাযথ তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে।
মাতৃভূমির খবর
- বিষয়:
- টঙ্গী
- মাদ্রাসাশিক্ষক

