The Sangbad · রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রসহ তিন দেশ নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহী: অর্থমন্ত্রী
১৯/১০/২০২৬

খুলনার কাছে হবে জ্বালানি হাবজ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশে নতুন তিন থেকে চারটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “গ্যাস সংকট নিরসনে তিনটি থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে কোরিয়ান, চাইনিজ ও আমেরিকান বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।”তিনি বলেন, “অফশোর ও অনশোর গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা অন্তত ১০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের কর ছাড় দেওয়া হয়েছে।”নতুন জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) খালাস করার সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক টার্মিনাল স্থাপন করা হবে, সেখানে জ্বালানি হাব।”চীনা প্রস্তাবে ফেরতগত ১৯ জুন চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিএনইই) মহেশখালীর কুতুবজোমে অফশোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। টার্মিনালটির দৈনিক গ্যাস পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের সক্ষমতা ধরা হয়েছিল ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, সর্বোচ্চ ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।তখন এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক হিসাব বিশ্লেষণ করে বলা হয়, কুতুবজোমে এফএসআরইউ নির্মাণে সিএনইইকে বর্তমান ব্যয়ের চেয়ে ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি দিতে হবে।গত ১৪ অক্টোবর, সিএনইই’র এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। কেন প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কারণ সরকার না জানালেও সিএনইই এর প্রস্তাবিত দর নিয়ে আগে থেকেই সমালোচনা ছিল।আমদানি নির্ভরতাদেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। মহেশখালীতে বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুই টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন টার্মিনাল স্থাপনের আলোচনার মধ্যে চীন যখন আগ্রহ দেখাচ্ছে, তখন ‘স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার’ কথা বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।গত ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ে টার্মিনাল নির্মাণের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানির প্রস্তাব ‘সর্বোচ্চ গুরুত্ব’ পাবে।সোমবারের আলোচনা সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগের সরকারের আমল থেকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে’ পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো সংকট কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার ‘কাজ করছে’ বলে তার ভাষ্য।অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসির চেয়ারম্যান ম. তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। সঞ্চালনা করেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান।অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম।অনুষ্ঠানে এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗