চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বেগমপুর (বিলপাড়া) গ্রামে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ ও উপজেলা ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে এক বৃদ্ধ চা দোকানির জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জমিতে বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বেগমপুর বিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম (৬১)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের প্রধানের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৯৯০ সালে বেগমপুর বিলপাড়া মাঠে ৩০ শতক জমি কিনে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তবে ২০২৩ সালের ২৭ জুন একই এলাকার হাবিবুর রহমান বেঙ্গার ছেলে মো. জাকির হোসেন (৩৮) তাঁর কেনা জমির সাত শতক দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ২০২৩ সালের ৫ জুলাই আদালতে মামলা করেন সিরাজুল ইসলাম। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। সিরাজুল ইসলামের দাবি, তদন্তের সময় জাকির হোসেন জমির মালিকানার পক্ষে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাঁর পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। মামলাটি পিটিশন কেস নম্বর ১৫০/২০২৩। আদালতের আদেশের পর বেগমপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিন উভয় পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কিন্তু আদালতের আদেশ ও পুলিশের নোটিশ উপেক্ষা করে গত ১৫ অক্টোবর থেকে জাকির হোসেন আবারও জমিতে প্রবেশ করে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন সিরাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ওই জমিতে আবার গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলামের দাবি, এসব ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় গত ২০ অক্টোবর দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জমি রক্ষায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সিরাজুল ইসলাম।
এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে জমি দখল, নির্মাণকাজ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বক্তব্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
The post আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখলের অভিযোগ, বৃদ্ধের সংবাদ সম্মেলন appeared first on ভোরের চেতনা.
