প্রতীকী ছবি। সৌজন্যে: ChatGPT
Published on
:
2 min read
অনলাইন ডেলিভারি কর্মীর (Flipkart Minutes) মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক পূর্ব দিল্লির কল্যাণপুরী এলাকায়। অভিযোগ, জিনিস ডেলিভারি করার পরে এক গ্রাহক তাঁকে ১০ টাকার ছেঁড়া নোট দেন। তা নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে গায়ে হাত তোলেন গ্রাহক। অভিযোগ, অভিমান-হতাশা থেকে বিষ খান তিনি। প্রায় ১৬ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরে ২০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ দিকে বিষের কৌটো হাতে নিয়ে একটি ভিডিয়ো করেন তিনি। সেখানে নিজের অবসাদ, হতাশা উগরে দেন তিনি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দিল্লি পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
Flipkart Minutes-এ কাজ করতেন সমীর হুসেন সইফি (২৪)। কল্যাণপুরী এলাকায় কাজ করতে তিনি। মৃত্যুর আগে সমীর একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করেন। যেখানে তিনি জানান, গত ৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ অর্ডার ডেলিভারি করতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে গ্রাহক যে টাকা দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ১০ টাকার একটি নোট ছেঁড়া থাকায় তিনি তা পরিবর্তন করে দিতে বলেন।
এক নজরে
৪ অক্টোবর রাতে ফ্লিপকার্ট মিনিটস-এর কর্মী সমীর হুসেন সইফি একটি ডেলিভারি দিতে গিয়ে ১০ টাকার ছেঁড়া নোট বদলানোর অনুরোধ করেন।
নোট বদলানো নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রাহক সমীরকে সকলের সামনে তিনবার চড় মারেন ও হুমকি দেন।
এরপরেই বিষ খান সমীর। তার আগে রেকর্ড করা ভিডিয়োতে সমীর তাঁর সততার দাম না পাওয়া এবং জনসমক্ষে হওয়া অপমানের কারণে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন।
৫ অক্টোবর বিষপান করার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ অক্টোবর সমীরের মৃত্যু হয় এবং পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে।
জন্মদিনের প্রাক্কালে ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া পরিবার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে পোস্ট-মর্টেম ও সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করেছে।
ভিডিয়োতে সমীর দাবি করেন, নোট বদলানোর কথা বলতেই ওই গ্রাহক অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন, হুমকি দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, কথা কাটাকাটি হাতাহাতির রূপ নেয়। সমীরের অভিযোগ, ওই গ্রাহক তাঁকে সকলের সামনে তিন বার চড় মারেন।
কষ্ট করে উপার্জনের কথা উল্লেখ করে সমীর বলেন, ‘আমার জীবনের এটাই সবচেয়ে কষ্টের বিষয় যে আমি এত পরিশ্রম করছি, সততার সঙ্গে কাজ করছি, অথচ মানুষ আমাকে গরিব ভেবে অবহেলা করে।’ তিনি আক্ষেপ করেন যে, এত মানুষের সামনে তাঁকে মারধর করা হলেও কেউ প্রতিবাদ করে এগিয়ে আসেননি। ডেলিভারি কর্মীদের সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সমীর।
সমীরের কাকা মহম্মদ সহিদ সইফি জানান, হেনস্থার ঘটনার পরে সমীর নিজের অফিসে যান। এর পরে সহকর্মীদের সঙ্গে কল্যাণপুরী থানায় যান। অভিযোগ দায়ের করেন সেখানে। পরে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মেডিকো-লিগ্যাল কেস দায়ের হয়।
৫ অক্টোবর বিষ খান সমীর। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই ২০ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। ২২ তারিখ অর্থাৎ আজ সমীরের জন্মদিন। বেঁচে থাকলে ২৫ বছরে পা দিতেন তিনি। বাড়ির ছেলের এই পরিণতি মানতেই পারছেন না বাড়ির লোকেরা। তাঁর কাকা বলেন, ‘কোথায় ওর জন্মদিন পালন করব, অথচ মৃত্যুর শোক পালন করতে হচ্ছে।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমীরের পরিবার। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে পোস্ট-মর্টেম করানোর দাবি তুলেছে তারা। একইসঙ্গে আইসিইউয়ের সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসাপদ্ধতি ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ডিটেলও চেয়েছে পরিবার।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমীরের পরিবার প্রশ্ন তুললেও পুলিশের দাবি, ৫ অক্টোবরই অভিযোগ পান তাঁরা। সে দিনই FIR দায়ের করা হয়। অভিযোগে নাম থাকা দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়।