Published on
:
2 min read
এই সময়: ঠাকুর দেখার আনন্দে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা, রাত জাগা আর রাস্তার ধারে মুখরোচক খাবার— পুজোর ক’দিনের এই চেনা ছবির ফ্রেমে শুধু বড়রাই থাকেন না, থাকে ছোটরাও। কিন্তু এই শারীরিক ধকল সইতে গিয়ে বাবা–মায়ের অলক্ষ্যে এই প্যান্ডেল হপিং প্রায়ই অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে ছোটদের জন্য।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, শারীরিক সহনশীলতার সীমা বড়দের চেয়ে যে ঢের কম হয় ছোটদের, সেই সহজ কথাটা উৎসবের আনন্দ আর উত্তেজনায় অনেক সময়ে বেরিয়ে যায় মাথা থেকে। ফলে গরমে দীর্ঘক্ষণ থাকা, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের ঘাটতি থেকে শিশুদের শরীরে জলের অভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে বমি ও ডায়ারিয়া থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপজ্জনক ডিহাইড্রেশন হতে পারে। তাই শিশুর ক্লান্তি বুঝে বিরতি দিতে, এমনকী প্রয়োজনে ঠাকুর দেখা থামিয়ে বাড়ি ফেরার উপদেশ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক আইসিইউ (পিকু) ও শিশুরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট শুভদীপ দাসের প্রেসক্রিপশন— ছোটদের বয়স যদি ৫ বছরের কম হয়, দিনের সবচেয়ে গরম সময় এবং অতিরিক্ত ভিড়, এই দুটো এড়িয়ে চলা জরুরি। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘক্ষণ প্যান্ডেলে ঘোরা, রাত জাগা, গরম ও ভিড় ছোটদের ক্লান্ত করে দিতে পারে দ্রুত। খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের রুটিন বারবার বদলালে তারা খিটখিটে হয়ে পড়তে পারে, অসুস্থও হয়ে যেতে পারে।’
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ সৌরদীপ মাইতির কথায়, ‘রাস্তার কাটা ফল, বরফ মেশানো পানীয় কিংবা খোলা খাবার থেকে জীবাণু শরীরে ঢুকতে পারে। তার জেরে বমি ও ডায়ারিয়া হলে শরীর থেকে জল এবং প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দ্রুত বাড়তে পারে।’
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার সঙ্গে অনিরাপদ খাবার যোগ হলে ডিহাইড্রেশন ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর খাদ্যবাহিত সংক্রমণে রক্তচাপ কমে আচমকা গুরুতর পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।’ তাঁর পরামর্শ— বেশি ছোটদের নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরোলে সঙ্গে বাড়ির নিরাপদ পানীয় জল ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখা বিচক্ষণতা। দুপুরে শিশুর ঘুমের সময় বজায় রাখাও জরুরি।
আনন্দপুরের ফর্টিস হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট সুমিতা সাহার মতে, ‘শিশুর বয়স ও সহ্য–ক্ষমতা বুঝে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।’ বারবার অল্প অল্প করে জল খাওয়ানো এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কোন লক্ষণ অবহেলা করা যাবে না, তাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। শিশু অস্বাভাবিক নিস্তেজ হয়ে পড়লে, মাথা ঘুরলে, ৬ ঘণ্টায় একবারও প্রস্রাব না করলে, বারংবার বমি হলে বা জ্বর এলে সতর্ক হতে হবে। জল খেতে না পারা, শ্বাসকষ্ট কিংবা সাড়া দিতে অসুবিধা হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।