ছোট ছেলের ফেরার অপেক্ষা আর পূরণ হলো না। এবার মায়ের শেষ বিদায় জানাতে দেশে ফিরলেন বড় ছেলে। বাংলা চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী নাসিমা খানের জীবনের শেষ অধ্যায়জুড়ে রয়ে গেল দুই ছেলেকে ঘিরে বেদনার গল্প। ছোট ছেলে নিখোঁজ, আর বড় ছেলে প্রবাসে—এমন বাস্তবতার মধ্যেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ষাটের দশকের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাসিমা খান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেত্রী।
নাসিমা খানের দুই ছেলে। বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। অন্যদিকে, ছোট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ। তাঁর সন্ধান এখনো মেলেনি। ছোট ছেলেকে শেষবারের মতো দেখার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখেই বিদায় নিতে হলো অভিনেত্রীকে। মৃত্যুর আগে বড় ছেলের সঙ্গেও দেখা হয়নি তাঁর।
আজিমপুরে জানাজা ও দাফন:
মায়ের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন শাবাব নাসিম রহমান। আজ বাদ জোহর রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে নাসিমা খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নাসিমা খানের ছেলে দেশে ফেরার পর পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়েছে।
মৃত্যুর পর রোববার রাতে উত্তরার লুবনা হাসপাতাল থেকে অভিনেত্রীর মরদেহ মারকাজুতে নেওয়া হয়। গোসল করানোর পর মরদেহ ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা হয়। পরে সোমবার সকালে একটি হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়।
বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ:
১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় নাসিমা খানের। ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০১১ সালে ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ চলচ্চিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এই অভিনেত্রীর বিদায়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
