ফ্রান্সে উচ্চমূল্য এবং সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। শনিবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্সেইতে বিক্ষোভকারীরা টাউন হলে হামলা চালান। তারা রাস্তা থেকে নিরাপত্তা ব্যারিয়ার সরিয়ে সেগুলো দিয়ে টাউন হলের দরজায় আঘাত করেন। তারা কিছুক্ষণের জন্য মিউনিসিপ্যাল ভবনের ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হন; সেখানে এক বিক্ষোভকারী দেয়ালে স্প্রে-পেইন্ট দিয়ে নৈরাজ্যবাদের প্রতীক হিসেবে ‘এ’ অক্ষরটি লিখে দেন। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
রাজধানী প্যারিসে, শহরের কেন্দ্রের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত ‘প্লাস দে লা রিপাবলিক’ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে আতশবাজি ও অন্যান্য বস্তু ছুড়তে থাকেন। এর জবাবে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।
ফরাসি বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে এক বিক্ষোভকারী চিৎকার করে বলেন, “আমরা বাস্তিল দখল করছি!”।
অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা শহরের ডানপন্থী টিভি সম্প্রচার কেন্দ্র ‘সি-নিউজ’ -এর সদর দপ্তরে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন এবং সেখানকার জানালা ভেঙে ফেলেন।
ফ্রান্সজুড়ে কর্তৃপক্ষ বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় মূল সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকায় আরো আটকের সম্ভাবনা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জিলে জোনে’ (হলুদ ভেস্ট পরিহিত) আন্দোলন—যা ২০১৮ সালে সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল—তা পুনরায় শুরু করার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতেই শনিবার এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।
গত মাসে প্যারিসের দরিদ্র উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলিগুলোর স্কুল থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। সেখানে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি এবং জরাজীর্ণ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সৃষ্ট ক্ষোভ দ্রুতই অসমতা, অপর্যাপ্ত সরকারি ব্যয় এবং সেবার মান কমে যাওয়ার বিরুদ্ধে একটি দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়।
শনিবারের এই বিক্ষোভে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিক, অবসরভোগী এবং কৃষকদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়, যাতে আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুপুর নাগাদ প্যারিসের বাইরে ১৪০টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে, যাতে ৩২ হাজার ৮০০ জন মানুষ অংশ নিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতা ও সহিংসতার জন্য তথাকথিত ‘অতি-বাম’ গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।
ফ্রান্সের অন্যতম বৃহত্তম শ্রমিক ইউনিয়ন ‘সিজিটি’ এই বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়েছে। তারা ‘উচ্চতর মজুরি ও পেনশন, পণ্যের মূল্য হ্রাস এবং জনগণের প্রয়োজন মেটায় এমন সরকারি পরিষেবাগুলোর সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
চলতি মাসে দুই হাজার জনের ওপর পরিচালিত একটি জরিপ অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
