আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবারই শেষ হচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বর্ধিত বিচারবিভাগীয় মেয়াদ। তার আগেই জরুরি ভিত্তিতে মেয়াদ বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানির জন্য দ্বারস্থ হয় দলীয় নেতৃত্ব। সেখানে বিচারপতি সুব্রমনিয়াম প্রসাদের একক বেঞ্চ তাঁদের শান্তিশৃঙ্খলার মুচলেকা ভঙ্গ এবং নিষিদ্ধ এলাকায় অনধিকার প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বিচারপতি তাঁদের পিটিশন প্রত্যাহারের অনুমতি দেয়। পাশাপাশি, বিকল্প আইনি রাস্তা খোলা থাকা সত্ত্বেও কেন সরাসরি হাইকোর্টে আসা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর পরেই সিজেপি-র তরফে দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা রিট পিটিশনটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানিকালে বিচারপতি সৌরভ ও আশুতোষকে পরামর্শ দেন, "আজ স্পেশাল এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এসইএম)-এর আদালতে কী প্রক্রিয়া হয়, তা দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা অবলম্বন করাই কি আপনাদের জন্য শ্রেয় নয়?" একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট জানায়, পিটিশন সরাসরি হাইকোর্টে দাখিল হওয়ায় তারা এই মুহূর্তে মামলার গুণগত মানের উপর কোনও মন্তব্য করছে না। হাইকোর্ট মনে করিয়ে দেয়, রিট পিটিশনের মাধ্যমে কেবল সিদ্ধান্তের আইনি প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা সম্ভব। কোনও আদালতের নির্দেশের গুণগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।
বিচারপতির মন্তব্যের আগে আবেদনকারীদের আইনজীবী অভীক চিমনি সওয়াল করেন যে, গত ১৯ অক্টোবরের এসইএম-এর নির্দেশে সিজেপি-র দুই নেতার বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তবে তার কোনও স্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি জামিনদারদের আবেদন বারবার অন্যায্যভাবে খারিজ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, শুনানিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শান্তিশৃঙ্খলার মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ বিবেচনা করে হাইকোর্ট। গত ১১ অক্টোবর পিস বন্ডে স্বাক্ষরের পরও তাঁরা নিষিদ্ধ ঘোষিত যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন। ওই জায়গার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং সেখানে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি।
বিক্ষোভের দিন ব্যারিকেড ভাঙার প্রসঙ্গও এদিন তোলেন বিচারপতি। মন্তব্য করেন, "শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও পুলিশের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। এই অনুমতি আন্দোলনকারীদের আটকানোর জন্য নয়। বরং বহিরাগতদের ভিতরে সমাজবিরোধীরা যাতে ঢুকে তাঁদের নাম খারাপ না করে বা গোলমাল না বাঁধায়, তার জন্য জরুরি।" কোনও সংগঠনের উদ্দেশ্য বা কার্যপ্রক্রিয়া বদলালে, শান্তি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের আশঙ্কায় প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত বলেই ইঙ্গিত দেয় আদালত।
