Published on
:
2 min read
দিল্লিতে রঙের কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভিন রাজ্যে তাঁর উপরে অত্যাচার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। শরীরজুড়ে ক্ষত আর পোড়া দাগ নিয়ে বাড়ি ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বুধবার সকালে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হলো বিধান ওঝা (৪৫) নামে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের। ঘটনায় চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। তবে কারা তাঁর উপরে অত্যাচার করত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ ও মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানের বাড়ি চুঁচুড়ার সুকান্তনগরে। প্রায় পাঁচ মাস আগে এলাকারই ঠিকাদার প্রশান্ত হালদারের সঙ্গে দিল্লির চন্দন হোলা এলাকায় রঙের কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। বাড়িতে বিধানের স্ত্রী ও ন’বছরের ছেলে রয়েছে। কাজের জায়গা থেকে প্রায় প্রতিদিনই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা হতো তাঁর।
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বিধানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। যোগাযোগ করেন ঠিকাদারের সঙ্গে। তখনই তাঁরা জানতে পারেন, বিধান অসুস্থ। এরপর তাঁকে দেখতে দিল্লি যান বিধানের স্ত্রী। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, বিধানের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে তিনি ঠিক মতো কথাও বলতে পারছেন না। গত ১০ অক্টোবর ট্রেনে করে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
এর পরে চিকিৎসার জন্য বিধানকে কল্যাণীর এইমসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে খবর। অভিযোগ, সেখানে বেড না পাওয়ায় তাঁকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই বুধবার সকালে মৃত্যু হয় বিধানের।
বিধানের বোন বিথিকা মল্লিক ও ভাগ্নি রিয়া মল্লিকের অভিযোগ, ‘দিল্লিতে থাকাকালীন দাদার উপর প্রবল অত্যাচার করা হতো।’ তবে কারা অত্যাচার করত, সেই নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তাঁরা। বিধানকে কোনও মাদকজাতীয় পদার্থ খাওয়ানো হয়েছিল বলেও সন্দেহ তাঁদের। পরিবারের সদস্যদের আরও দাবি, বিধানের সারা শরীরে ক্ষত ও পোড়ার দাগ ছিল।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিধান অসুস্থ হওয়ার পরে ঠিকাদার প্রশান্ত হালদারের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা কোনও সন্তোষজনক উত্তর পাননি। শুধু প্রথমে জ্বর হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল তাঁদের। এই ঘটনায় চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিধানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং তাঁর শরীরে ক্ষত ও পোড়ার দাগ কী ভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
