Published on
:
2 min read
‘এখন অনেক রাত / তোমার কাঁধে আমার নিশ্বাস...’
একসময় সম্পর্কের গভীরতা এমনই ছিল। কিন্তু এখন সবই অতীত। প্রাক্তনের মুখদর্শন করতে চান না। এমনকী ওই নামের অন্য কোনও মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও মনের মধ্যে দামামা বেজে ওঠে। কারও কারও আবার চোখ-মুখ লাল হয়ে যায়। কান জ্বালা করতে থাকে। আবার অনেকেই এমন পরিস্থিতি সামলে নিয়ে প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুতা বজায় রাখতে পারেন। উৎসব-অনুষ্ঠানে দেখা করেন। বন্ধু হিসেবে একে অপরের ভালোই চান। শুধু আগের মতো এখন আর একসঙ্গে রাত কাটান না। এমন কোনও বিষয় উত্থাপন করেন না যেখানে শরীরী প্রেমের ইঙ্গিত রয়েছে। এমন পরিস্থিতি হয়তো অনেকের জীবনেই এসেছে। কিন্তু সত্যিই কি সঙ্গী প্রাক্তনে রূপান্তরিত হলে তাকে বন্ধুর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা সম্ভব? প্রাক্তনের সঙ্গে সত্যিই কি শুধু ‘প্লেটনিক’ সম্পর্ক বজায় রাখা যায়? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি এ প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য খোলসা করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, প্রাক্তনের সঙ্গে একেবারে বিশুদ্ধ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব। নিজের নতুন ছবি ‘Lust Stories 3’-এর প্রচারে এসে অদিতি বলেন, ‘প্রাক্তনের সঙ্গে নিছক বন্ধু রাখা যায় না এমন ধারণার সঙ্গে আমি একেবারেই সহমত নই। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের সম্পর্ক প্লেটনিক হতেই পারে। আমি তো কো-এড বোর্ডিং স্কুলে পড়েছি, তাই আমার কাছে এই বিষয়টা খুব সহজ।’ তবে অদিতির এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজ়েনদের একাংশ তাঁকে ‘Red Flag’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি শারীরিক প্রেম না রেখে প্রাক্তনের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব? এই বিষয়ে মনোবিদদের কী মত?
মনোবিদরা বলছেন, প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বর্তমান সঙ্গীর মনের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। বাইরে থেকে মনে হতে পারে তিনি অতীত থেকে বেরিয়ে এসেছেন। কিন্তু মস্তিষ্ক পুরোনো আবেগকে চট করে পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারে না। পুরোনো স্মৃতি কিংবা সম্পর্ক মস্তিষ্কে বিশেষ নিউরাল পাথওয়ে (Neural Pathways) তৈরি করে রাখে। যখন কেউ মানসিক চাপে থাকেন বা বর্তমান সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়, তখন অসচেতন ভাবেই প্রাক্তনের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা চলে আসে। ফলে ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও প্রাক্তনের উপস্থিতি নতুন সম্পর্কে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়।
প্রাক্তনের সঙ্গে আদৌ কি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব?
মনোবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র বিশেষ দু'টি পরিস্থিতিতে প্রাক্তনের সঙ্গে প্লেটোনিক বন্ধু থাকা সম্ভব।
১. পুরোনো বন্ধুত্ব যখন প্রেমে রূপ নেয়: যে দু’জন মানুষ বহু বছর ধরে শুধুই ভালো বন্ধু ছিলেন এবং পরে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। তেমন ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভাঙার পরেও তাঁরা আবার আগের বন্ধুত্বের জায়গায় ফিরে যেতে পারেন।
২. যেখানে আদান-প্রদান ছিল না/কম ছিল: যে সম্পর্কে শারীরিক বা মানসিক আদান-প্রদান খুব কম ছিল বা একেবারেই ছিল না, সে ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের পরে সহজেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফিরে যাওয়া সম্ভব।