ছবির ক্যাপশন: .
মল্লিক এম.আই বুলবুল সোহেল, পাথরঘাটা প্রতিনিধি
ডেঙ্গুর করাল গ্রাসে ঝরে গেল আরেকটি প্রাণ। বরগুনার পাথরঘাটায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা পরিষদের চিফ অ্যাসিস্ট্যান্ট (সিএ) মোসা. সিরাজুম মনিরা (৩৩) মৃত্যুবরণ করেছেন।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
মোসা. সিরাজুম মনিরা চরদুয়ানী ইউনিয়নের হোগলাপাশা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিরাজুল মুন্সির কন্যা। তার স্বামী মনির মিয়া সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের বাসিন্দা। রেখে গেছেন দুই শিশু সন্তান—একজন ১০ বছরের ছেলে এবং ৬ বছরের কন্যা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মনিরা গত মঙ্গলবার থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। শুক্রবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে দ্রুত বরিশাল রেফার করা হলে পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “রোগীর অবস্থা শুক্রবারই সংকটাপন্ন ছিল। তাই দ্রুত বরিশাল পাঠানো হয়, কিন্তু আমরা তাকে বাঁচাতে পারিনি।”
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বরগুনা জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৭৯ জন, মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। এর মধ্যে পাথরঘাটায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন দুজন।
জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদ পানির সংকটের কারণে বহু মানুষ বৃষ্টির পানি জমিয়ে রাখছেন। কিন্তু এসব পানি অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার কারণে পরিণত হচ্ছে মশার প্রজননক্ষেত্রে। ফলে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন জনসচেতনতা এবং পানির সংরক্ষণ পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন। তা না হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং ভয়াবহ মহামারির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
