কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিনিদ্র রজনী যাপন করছেন। রাতে তাঁর ঘুম আসে না। ভয়ে ভয়ে আছেন। রাহুল বলেন, ‘আমি জানি, উনিও এই সংবাদ সম্মেলন দেখছেন। তাঁর উচিত, রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া।’
আজ সোমবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করে রাহুল বলেন, ‘ওরা প্রচার করছে, প্রধান বিচারপতি বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। কিন্তু ওরা আসল বিষয়টাই এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি আমাদের পথ বাতলে দিয়েছেন। বলেছেন, আমরা যেন পিটিশন বা আবেদন ফাইল করি। সেটাই আমরা করতে যাচ্ছি। আজই বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সেই আবেদন আমরা জমা দেব।’
দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লোকসভার বিরোধী নেতা বলেন, ‘এই লড়াই সংবিধান রক্ষার লড়াই। দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষার লড়াই। আপনাদের, আমাদের সবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যে যেভাবে পারুন, এই লড়াইয়ের শামিল হোন।’ জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব রাহুল আগেও দিয়েছিলেন।
আজও জ্ঞানেশের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘আপনি পদত্যাগ করুন। রাজসাক্ষী হয়ে যান। এটাই একমাত্র উপায়। প্রায়শ্চিত্যের উপায়। আপনি অন্যায় করেছেন ঠিকই, কিন্তু মূল অপরাধী আপনি নন। মস্তিষ্ক আপনার নয়।’
মূল অপরাধী কারা, রাহুল তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল, গৌতম আদানিরা সিইসির ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে চলেছেন। সে জন্যই এত অপকর্ম। সেই কারণেই সংবিধান বিপন্ন। তিনি বলেন, এটা এক দিনের লড়াই নয়। এই লড়াই থামারও নয়। দিল্লিকে দুর্গ করে ফেলা হয়েছে। ৩০ থেকে ৪০ হাজার পুলিশ রাস্তায় নামানো হয়েছে। তাঁরা ক্লান্ত বোধ করছেন। তিনি বলেন, ‘৫০ শতাংশ পুলিশ চায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাই। তাঁরা বলছেন, “আপনারা যা করছেন ঠিক করছেন।”’
রাহুল বলেন, ‘দুই শতাধিক সরকারি কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে ইডি, সিবিআইয়ের কর্তা যেমন আছেন, রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আধিকারিকেরাও। সরকারের সব খবর তাঁদের কাছ থেকে আমরা নিয়মিত পাচ্ছি। তাঁরা আমাদের হাতে নতুন নতুন তথ্য তুলে দিচ্ছেন।’
সরকারের সমালোচনা করে রাহুল বলেন, ‘আমরা প্রথমে চেয়েছিলাম নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের কাজকর্মের প্রতিবাদ জানাব। তা করতে দেওয়া হলো না। আমাদের গ্রেপ্তার করা হলো। তার পরদিন আমরা যন্তর মন্তরে যেতে চাইলাম। সেটাও দেওয়া হলো না। তারপর সবাই রাজঘাটে গিয়ে প্রার্থনা করলাম। এবার সুপ্রিম কোর্টে যাব।’ তাঁদের ঠেকাতে পুলিশ কীভাবে অত্যাচার করেছে, কীভাবে আরএসএসকে রাস্তায় নামানো হয়েছে, পেটানো হচ্ছে, সেই ভিডিও দেখিয়ে রাহুল বলেন, লড়াই কঠিন। এই লড়াইয়ে জেতার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। অধ্যবসায় প্রয়োজন। অবিরাম চেষ্টা চালাতে হবে।
রাহুল বলেন, ‘যত দিন জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দেবেন না, তত দিন আমরাও থামব না।’ বিজেপির মধ্যে যাঁরা এই পরিস্থিতিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাঁদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘আপনারাও আসুন। সংবিধান রক্ষা করুন। গণতন্ত্র বাঁচান। দেশ বাঁচান।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাহুল বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি। পরিস্থিতির বিচারে কর্মসূচি ঠিক করছি। কোনো কিছু পরিকল্পনা করে আগাম ভেবে করছি না। আকাশবাণী ভবনে ভেবেচিন্তে আমরা যাইনি। পরিস্থিতি যেভাবে এগোবে, আমরাও সেভাবে অগ্রসর হব।’
