Published on
:
2 min read
এই সময়, ঝাড়গ্রাম: চিল্কিগড়ে প্রায় পাঁচশো বছরের প্রাচীন কনকদুর্গার পুজোয় নবমীতে বন্ধ রইল মহিষবলি। বলির পরিবর্তে মহিষের গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে পুজো করা এ বার এখানকার দুর্গোৎসবে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মানতেই পুজোয় এই পরিবর্তন বলে দাবি মন্দির কমিটির। তবে, নিয়ম মেনে ছাগবলি হয়েছে। পুজো দেখতে মন্দির চত্বরে ভিড় করেছিলেন দূরর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের চিল্কিগড়ের জঙ্গলে রয়েছে শতাধিক বৎসর প্রাচীন কনকদুর্গার মন্দির। দুর্গাপুজোর সময়ে ষোড়শ উপচারে তন্ত্রমতে এখানে অধিষ্ঠিত দেবীকে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গারূপে পুজো করা হয়। পুজোকে ঘিরে ইতিহাস ও জনশ্রুতিও কম নেই। এখানে দেবীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় হাঁসের সেদ্ধ ডিম। পুজোর বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র নবমীতে মহিষবলি। যা দেখার জন্য প্রতি বছর উপচে পড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে, এ বার তাতে ছেদ পড়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যে নতুন সরকার পশু হত্যা যেমন গোরু, মহিষের হত্যা রুখতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ১৯৫০ সালের মূল পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে ইদের সময়েও জবাই হয়নি। পুজোর সময়েও গবাদি পশু বলি দেওয়া যাবে না বলে পুলিশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে ছাগ ও ভেড়া বলির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা নেই। প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, নিয়মানুযায়ী গবাদি পশু জবাই বা বলি দেওয়া যাবে না। ছাগল ও পাঁঠা গবাদি পশুর আওতায় পড়ছে না। ছাগল ও পাঁঠা কেবল মাত্র মাংসজাত হিসেবে ব্যবহার হয়। তাই, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পশু হত্যার আইনকে মান্যতা দিয়ে চিল্কিগড় মন্দির কর্তৃপক্ষ মহিষবলি বন্ধ করে এ বার ছাগবলির ব্যবস্থা করে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, দেবী রক্তমুখী হওয়ায় অতীতে নরবলির পথা চালু ছিল। ক্রমে তা বন্ধ হয়ে পরবর্তীতে মহিষবলি হতো। তবে, মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও মহিষ বলি হয় না। মনস্কামনা পূরণে ভক্তরাই মহিষবলির জন্য নবমীর দিনে হাজির হতেন মন্দির প্রাঙ্গণে এবং সেখানে বলি দেওয়া হতো।
মন্দিরের পুরোহিত গৌতম ষড়ঙ্গী বলেন, ‘সরকারি নির্দেশিকা থাকায় এ বছর পুজোর শুরু থেকেই যে সমস্ত ভক্ত মহিষবলির বিষয়ে জানাতে এসেছিলেন, তাঁদের আগে থেকেই নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার পরেও নবমীর দিন চারটি মহিষ বলির জন্য নিয়ে আসা হলে সেগুলিকে পুজো করে মালা পরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ বছর থেকে এই মন্দিরে বন্ধ হয়ে গেল মহিষবলি।’
