স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলা সদর উপজেলায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে আসিফ নামে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজাপুরের আনন্দবাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত বিএনপি নেতা হোসেন ম্যানেজারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হোসেন ম্যানেজার আসিফকে প্রকাশ্যে মাদক সেবনে বাধা দেন। আসিফ রাজাপুরের বাসিন্দা। এর জেরে গত শনিবার সন্ধ্যায় আনন্দবাজার এলাকায় হোসেন ম্যানেজারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আসিফ। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা হোসেন ম্যানেজারকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। তার অবস্থার গুরুতর হওয়ায় তাকে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করে। আহত হোসেন মাঝি রাজাপুরের ৭নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে রাজাপুরের ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আসিফকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত অবস্থায় আসিফকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) ভোররাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিফ মারা যান। নিহত আসিফ ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো. সালাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিহতের মা হালিমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে মাদকাসক্ত এবং হোসেন ম্যানেজারকে কুপিয়েছে এটা সত্য। তাই বলে আমার ছেলেকে বাজারে সবাই মিলে পিটিয়ে হত্যা করবে? আমি এটার বিচার চাই।’
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘আসিফ মাদকাসক্ত, সে পূর্বেও একাধিকবার জেল খেটেছে।’ সে এলাকায় বেপরোয়া ছিলো। তার কারণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে।
এদিকে আসিফের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একটি মহল এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় হোসেন ম্যানেজারকে ছুরিঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা আসিফকে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।’