Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর মরশুম শেষ হতে না হতেই দুর্যোগের চোখরাঙানি! বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ। ওই নিম্নচাপের ২৬ অক্টোবর, সোমবার সকালে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি। মনে করা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে জন্ম নেওয়ার পরে ওই ঘূর্ণিঝড় পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে ২৭ অক্টোবর থেকে বাংলার উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর কলকাতা–সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দুর্যোগের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, উত্তরবঙ্গেও প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের।
শুক্রবার আলিপুর হাওয়া অফিসে পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৩ তারিখ সকাল সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণ-পূর্ব এবং সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে। সকাল সাড়ে আটটায় সেটি একই অঞ্চলে অবস্থান করছিল। ওই নিম্নচাপের সঙ্গে যুক্ত একটি ঘূর্ণাবর্ত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আজ, শনিবার নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। রবিবার সেটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। ২৬ অক্টোবর সকালের মধ্যে সেটি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
এর পরে ঝড় আরও শক্তি বাড়িয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোতে পারে। ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত সেটির শক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত গতিপথ, তীব্রতা ও ল্যান্ডফলের সম্ভাব্য স্থান সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। মনে করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তর ও ওডিশার দক্ষিণ উপকূলের কাছে কোনও জায়গায় ল্যান্ডফল করতে পারে।
২৭ অক্টোবর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও কলকাতার দু’এক জায়গাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
২৮ অক্টোবর পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা। ওই দিন কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের দু’এক জায়গায় ৭-১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত অর্থাৎ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব বেশি। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া, দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতি ৬০ কিলোমিটার হতে পারে। ২৯ অক্টোবর পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। একই দিনে উত্তরবঙ্গেরও প্রতিটি জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের দু’এক জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ দিন কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। ২৫ অক্টোবর থেকেই মধ্য বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হওয়ার সম্ভাবনা। ২৭ অক্টোবর থেকে বাংলার উপকূলেও সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। উপকূল বরাবর ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে, দমকা হাওয়ার গতি পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারে। ফলে মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি হতে পারে।