৪৩০ রানের অসম্ভব পাহাড় ডিঙিয়ে শ্রীলঙ্কার বিশ্বরেকর্ড জয়
স্পোর্টস ডেস্ক
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক ভোরের কন্ঠ অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জেতা? ক্রিকেটবোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক—সবাই একবাক্যে ধরে নিয়েছিলেন ম্যাচটা ইংলিশদের ঝুলিতেই যাচ্ছে। কিন্তু রূপকথাকেও হার মানানো এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখল লঙ্কানরা। ত্রিদেশীয় সিরিজের এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মোট ৮৫৯ রানের বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টিকারী লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে শ্রীলঙ্কা।
এটি শ্রীলঙ্কার ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ এবং আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের অনন্য রেকর্ড। এর আগে ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান তাড়া করে ৪৩৫ রান তুলে জিতেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
ম্যাচের শুরুতেই টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে রানের বন্যা ভাসিয়ে দেয় ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার টম ব্যান্টন (৫০) ও অন্য ওপেনারের (২৯) পর জো রুটের ৬৬ বলে ৬৯ রানের ইনিংসে ভর করে শক্ত ভিত পায় তারা। তবে আসল ঝড় তোলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও উইল জ্যাকস। মাত্র ৭৭ বলে ১৮৫ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন দুজনে। ব্রুক মাত্র ১১৪ বলে ওয়ানডে ক্রিকেটে এক চোখধাঁধানো ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ১১৬ বলে ২০২ রান! অন্যদিকে জ্যাকস ৩০ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ইংল্যান্ড তোলে রান পাহাড়—৪২৯!
৪৩০ রানের আকাশচুম্বী লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ঘোর বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। মাত্র ২৪ রানের মাথায় আউট হন কামিন্দু মেন্ডিস (১৮) আর রানের খাতা না খুলেই রানআউটের শিকার হন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস।
তবে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তোলেন আভিস্কা ফার্নান্দো ও পবন রত্নায়েক। দুজনে মিলে ১৬৬ রানের এক অসাধারণ জুটি গড়েন। মাত্র ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন আভিস্কা (৮৩ বলে ৯৭)। তবে রত্নায়েক ও দাসুন শানাকা মিলে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৭৯ বলে ১৩৩ রানের তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচের গতি পুরো বদলে দেন। রত্নায়েক ১০৬ বলে ১৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৩০ রানের ঝকঝকে সেঞ্চুরি হাঁকান। আর শানাকা মাত্র ৫০ বলে ৬টি চার ও ৮টি দৈত্যাকার ছক্কায় ঝড়ো ৯৭ রান করে আউট হন।
শানাকা ও রত্নায়েক ফেরার পর লড়াই চালিয়ে যান শায়ান আচার্যে ও জানিথ লিয়াঙ্গে। জয়ের পথেই ছিল লঙ্কানরা, কিন্তু শেষ ওভারে গিয়ে ঘটে নাটকীয় মোড়! ইংলিশ পেসার জশ টাং শেষ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে পরপর দুটি উইকেট তুলে নিলে হুট করেই ম্যাচ ইংল্যান্ডের দিকে হেলে পড়ে।
শেষ ২ বলে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন দাঁড়ায় ৬ রান! পুরো স্টেডিয়াম তখন থমথমে। চাপের মুখে বরফশীতল স্নায়ুর পরিচয় দিয়ে ওভারের পঞ্চম বলেই এক চোখধাঁধানো ওভারবউন্ডারি (ছক্কা) হাঁকিয়ে লঙ্কানদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন জানিথ লিয়াঙ্গে! তিনি মাত্র ২৭ বলে ৬০ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
হ্যারি ব্রুকের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরি ফিকে করে দিয়ে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই রান তাড়ার রূপকথা লিখে ম্যাচটি নিজেদের নামে করে নেয় শ্রীলঙ্কা।
