লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী রিনা আক্তার নারাজি আবেদন করেছেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল রোববার লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি রায়পুর আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এই আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তারের স্বামী আবদুর রহিম রনিকে আটকের পর মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি। প্রথমে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং সর্বশেষ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিটি তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন দাখিল করে। গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে গত ১৭ আগস্ট বাদীপক্ষ পুনরায় নারাজি আবেদন করে। গতকাল রোববার শুনানি শেষে আদালত বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সঠিকভাবে তদন্ত না করেই প্রতিবেদন দিয়েছেন। রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ বা ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়নি। এ ছাড়া বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দিও সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুরে বর্ডার বাজার এলাকা থেকে রনিকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তার কাছে থাকা গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ছিনিয়ে নেন এবং থানায় নিয়ে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিতে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। তবে পুলিশ তৎকালীন সময়ে দাবি করেছিল, ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র, কার্তুজ ও মাদকসহ রনিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেনÑ রায়পুর থানার এসআই মো. আবু হানিফ (১), এসআই মো. আবু হানিফ (৩), এসআই মো. নুরুল ইসলাম, এএসআই সফিক মিয়া, এএসআই সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।