যোগদানের ১৭ দিন পর কার্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপাচার্য ভবনের মূল ফটকে তালা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারপর থেকে ওই ভবনেই আটকে আছেন তিনি। তালা দেওয়ার পাশাপাশি ভবনটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারীরা। এতে সন্ধ্যার পর ভবনটি অন্ধকার হয়ে পড়ে।
ভবনে উপাচার্য শরীফুল আলমের সঙ্গে চুয়েট ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাসহ মোট ১০-১২ জন আটকা পড়েছেন। তবে সন্ধ্যায় অবরুদ্ধদের জন্য কলা, পাউরুটি, বিস্কুট ও পানি পাঠিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে বিকেলে ভবনের নিচে তালা দেওয়া গেইটে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে এতে শিক্ষার্থীরা সাড়া দেয়নি; উল্টো তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
এক পর্যায়ে উপাচার্য আন্দোলনকারীদের উপস্থিতিতেই একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাদের এই ভবনে যে ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস- এগুলো চালু করে তারা তাদের আন্দোলন চলমান রাখুক।”
পরে অধ্যাপক শরীফুল আলম সেখান থেকে আবার ভবনের উপরের তলায় চলে যান।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শেখ শরীফুল আলমকে। এর প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। হঠাৎ সোমবার সকালে চুয়েট ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে যান। খবর পেয়ে আন্দোলকারী শিক্ষার্থীরা এসে ভবন ঘিরে ফেলে প্রধান গেইটে তারা লাগিয়ে দেন।
আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, “সকালে তালা ভেঙে তিনি (উপাচার্য) কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। উনাকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউ চায় না। তবু তিনি জোর করে দায়িত্ব পালন করতে চান।
“এরমধ্যে চুয়েটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার সময় দুটি বাসে হামলা হয়েছে। মদুনঘাটে এবং চান্দগাঁও এলাকায় দুই দফায় হামলা হয়। আমাদের শাটডাউন কর্মসূচি চলমান আছে। ভিসি কার্যালয় অবরোধও চলবে।”
উপাচার্য কার্যালয়ের ভিতর আটকা পড়া চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ সন্ধ্যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভিসি স্যার কার্যালয়ে ওভাবেই আছেন। এখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, অ্যালমাইসহ আমরা ১০-১২ জন আছি। তাদের মধ্যে ৪/৫ জন শিক্ষার্থী।
“উপাচার্য ভবনের পানি-বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এই অবস্থাতেই আমরা ভিতরে আছি। উপাচার্য স্যার বিভিন্ন জায়গায় কথা বলছেন, তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন কী করা হবে।”
উপাচার্য বিকেলে ভবনের নিচে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন জানিয়ে ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, “তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু যারা ভবনে তালা দিয়েছে তারা উগ্রতা দেখিয়েছে। ভিসি স্যার যে কোন সময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছেন।”
এদিকে সন্ধ্যায় আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কলা, বিস্কুট, পাউরুটি ও পানির বোতল বন্ধ ফটকের ভিতর প্রবেশ করাতে দেখা যায়। এ সময় তারা হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন, ভবনের ভিতরে থাকাদের জন্য খাবার রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়েট ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, “নিচে খাবার দেওয়ার বিষয়ে আমরা জানি না। আমরা এমনিতে নাস্তা খেয়েছি। কোন সমস্যা নেই।”
