নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা সংযোগ সড়কের দুর্ভোগ লাঘবে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় যুবনেতা কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন ও একদল তরুণ। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজ খরচে ও তরুণদের শ্রমে সড়কের ভাঙা অংশ মেরামত করে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করেছেন তারা। এতে স্বস্তি ফিরেছে ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়খাপন ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাকা সড়ক থেকে বড়ইউন্দ বাজারগামী সংযোগ সড়কটির প্রায় ২০০ ফুট অংশ গত বন্যার প্রবল স্রোতে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গনাই নদী ও রেকার হাওরের ইসারবাড়ি খালের সংযোগস্থলে অবস্থিত এ সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতেও দেখা দেয় চরম সংকট। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই ছোট যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটত।
এমন পরিস্থিতিতে দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেন যাত্রাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন। দুর্গাপূজার ছুটিতে বাড়িতে আসা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া স্থানীয় তরুণদের সংগঠিত করে নিজ খরচে সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু করেন তিনি। কোদাল-ঝুড়ি হাতে তরুণদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাটি ভরাট করে ভাঙা অংশটি আপাতত চলাচলের উপযোগী করা হয়।
এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একজন বলেন, ‘ভাঙা রাস্তার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছিল। কাঞ্চন ভাই ও এলাকার ছেলেরা এগিয়ে এসে কাজটি করায় আমরা কৃতজ্ঞ।’
কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন বলেন, ‘আমাদের কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। পূজার ছুটিতে বাড়িতে আসা তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করে নিজ খরচে সড়কটি সাময়িকভাবে মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নে আমাদেরও দায়বদ্ধতা রয়েছে। তরুণরা এগিয়ে এলে কোনো কাজই অসম্ভব নয়।’
স্থানীয়দের কাছে সড়কটি কেবল যাতায়াতের পথ নয়, রেকার হাওরের ইসারবাড়ি খালের পাড়ঘেঁষা একটি গুরুত্বপূর্ণ হাওর রক্ষা বাঁধও। মানুষের চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, গোবিন্দপুর পাকা সড়ক থেকে বড়ইউন্দ বাজার পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি স্থায়ীভাবে পাকাকরণ করা হলে বদলে যাবে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে নিরসনে দ্রুত সরকারি অর্থায়নে টেকসই পাকা সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও তরুণ সমাজ। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সুদৃষ্টি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
