বক্তারা লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন, মানবতাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সমকালীন সমাজে লালনের দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে গতকাল সন্ধায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বিশেষ স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের জীবন, দর্শন ও মানবতাবোধ নিয়ে আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
শিল্পকলা একাডেমি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহা. হারুন-অর-রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘লালনের মূল শিক্ষা হলো জাত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে মানবতা ও মানবপ্রেম জাগ্রত করা। লালনের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তার দর্শনে বিভেদ নয়, বরং সম্প্রীতি ও সমতার কথা উঠে এসেছে। নারী-পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও গোষ্ঠীর ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি গড়ে তোলাই লালনের শিক্ষা। এ শিক্ষা সবার অনুসরণ করা উচিত।’
বক্তারা লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন, মানবতাবোধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সমকালীন সমাজে লালনের দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
আলোচনা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের প্রথিতযশা লালনশিল্পী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সংগীতশিল্পী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) শিল্পীরা।
লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শনে মানবতা, সাম্য ও জাত-ধর্মের বিভাজন অতিক্রম করে মানুষকে উপলব্ধি করার বার্তা উঠে এসেছে। তার জীবন ও সাধনার এ মানবিক দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও মানবতাবোধ জাগ্রত করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে ঢাকার বাইরেও দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলায় লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
