আমরা এমন একটি দেশকে দেখছি, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা এমন কিছু আর দেখিনি। এটা রীতিমতো নজিরবিহীন।
ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার ‘কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে’ থাকায় তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমঝোতা বা স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
রুবিও বলেছেন, ইরানি শাসকদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন। দুর্ভাগ্যবশত, তারা দক্ষ আলোচক নন এবং কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।
তিনি আরো যোগ করেন, তারা ধর্ম দ্বারা পরিচালিত হন। তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন।
ইরানের সমালোচনা করে রুবিও বলেছেন, আমরা এমন একটি দেশকে দেখছি, যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে যে তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা এমন কিছু আর দেখিনি। এটা রীতিমতো নজিরবিহীন। তারা এমন কৌশল ব্যবহার করছে, যা নাৎসি সাবমেরিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। এটি এমন একটি বিষয়, যার নিন্দা জানাতে বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
উল্লেখ্য, মধ্যস্থতার তৎপরতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি তেহরান সফরে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেখানে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে বাঘের ঘালিবাফ বলেছেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ সাতটি শর্ত দিয়েছে। এসব শর্ত পূরণ হওয়ার আগপর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা শুরু করবে না তেহরান।
