ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ভারতে সাফ শিরোপা হারানোর পর এশিয়ান গেমসে দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার। বছর দেড়েক আগে মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলা নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশের। সেই মিয়ানমারকেও তারা এবার এশিয়ান গেমসে হারাতে পারেনি।
সিনিয়র দলের পাশাপাশি ব্যর্থ হয়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ দলও। এএফসি অ-১৭ টুর্নামেন্টের বাছাইয়ে ফিলিপাইনের বিপক্ষে ৩ গোলে হেরে মূলপর্বে খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। যদিও এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য চীন এবং অ-১৭ টুর্নামেন্টের জন্য জর্ডান পাঠিয়েছিল বাফুফে। এত প্রস্তুতির পরও বাজে ফলাফলে দুই দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার ও সাইফুল বারী টিটুর ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ এবার ভারতে গিয়েছিল হ্যাটট্রিক সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে। বাফুফে এজন্য থাইল্যান্ডে পাঠিয়েছিল প্রস্তুতির জন্য। এরপরও পিটার বাটলারের দল ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ এবং ফাইনালে হারে। এশিয়ান গেমসের জন্যও বাফুফে প্রস্তুতির কমতি রাখেনি। চীনের গুয়াংজুতে প্রায় সপ্তাহ দু’য়েকের ক্যাম্প ও অনুশীলন ম্যাচের ব্যবস্থা করেছিল। এত কিছুর পরও এশিয়ান গেমসে জাপানে প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০ গোল ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৬ গোল হজম। বাংলাদেশ তো বটেই এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে প্রথম ম্যাচে একাদশেই রাখেননি বাটলার। সব মিলিয়ে তার পারফরম্যান্স ও কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ।
বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও বাটলারের ওপর অসন্তুষ্ট। সরাসরি মন্তব্য না করে তিনি বলেন, ‘বাটলার বিষয়ে আমার যা বলার সভাপতিকে বলেছি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন সভাপতির।’ নারী উইংয়ের প্রধানের বক্তব্যে প্রতীয়মান তিনি বাটলারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সভাপতিকে দিয়েছেন। বাটলার বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের বক্তব্য, ‘ফুটবল ফেডারেশনের সকলেই জবাবদিহিতার আওতায়, কেউই উর্ধ্বে নয়। সবাইকে এবং সব কিছুই সময় মতো দেখা হবে।’
পিটার বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ সাফ চ্যাম্পিয়ন ও এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উঠেছে। এরপর ফেডারেশন তাকে অনেক সুযোগ-সুবিধা দিলেও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা তো নেই-ই, উল্টো অবনমন হয়েছে ফলাফলে। অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়া কাপ, এশিয়ান গেমস, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সব টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের ডিফেন্সে ঘাটতি ছিল। মাসুরা পারভীন পরীক্ষিত ডিফেন্ডার হওয়া সত্ত্বেও বাটলার তাকে খেলানো তো দূরে ক্যাম্পই ডাকেন না। সাবিনা-মাসুরাদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের ক্যারিয়ার প্রায় শেষের পথে। নারী দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় বাটলারের একগুঁয়ে মনোভাব আবারও প্রশ্নের মুখে। পিটার বাটলারের দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। বাফুফের একাংশ বাটলারের পরিবর্তে নতুন কাউকে নারী দলের দায়িত্বে দেখতে চায়।
আরও পড়ুন
সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ সাইফুল বারী টিটু মূলত বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। সারা বছর তিনি কোচিং কোর্স করান। এত সনদধারী কোচ তৈরি করছেন, অথচ অ-১৭ দলের প্রধান কোচ হওয়ার মতো যোগ্য কেউ নেই। বাফুফে তাকেই জুনিয়র নারী দলের প্রধান কোচ করেছে। অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ, জর্ডানে প্রস্ততি ম্যাচ; এরপরও উজবেকিস্তানে ব্যর্থ বাংলাদেশ। যদিও ভালো কিছুর জন্য নারী দলের পরীক্ষিত কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে সরিয়ে টিটুকে দায়িত্ব দিয়েছিল ফেডারেশন। টিটুর ব্যর্থতা নিয়ে নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মূলত টেকনিক্যাল কমিটির অধীন। টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন টিটুর পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে তার অনেক কাজ। তাকে কোচ করা হলে টেকনিক্যাল কাজে বাধা পড়ে। এ নিয়ে আমার খানিকটা আপত্তি থাকে। এরপরও ফুটবল ও ফেডারেশনের স্বার্থে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বছর শেষে তার সামগ্রিক কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন হবে।’
টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি অনেক। তিনি কোচিং কোর্স ও শুধু নারী দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই বাফুফে সহ-সভাপতি ও ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের কর্মকাণ্ডে সর্বশেষ জাতীয় দল কমিটির সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এজেড/এএইচএস
