মাহমুদা মিতু • এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে পূজামণ্ডপে পাহারার দরকার হবে না
শৈশবের স্মৃতিতে হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সবার নির্ভয়ে ধর্ম পালনের অধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সারাজীবন হিন্দুদের মধ্যে বড় হয়েছি। আমার বাসার আশেপাশে ১০/১৫ ঘর জুড়ে এখনো হিন্দু পরিবার। আমার শৈশব, আমার বেড়ে ওঠা, আমার স্মৃতির একটা বড় অংশ জুড়েই তারা। বিকাল বেলা শিপ্রা পিসি কিংবা ঠাম্মা একজন আমাদের বাসায় না আসলে পরের দিন আম্মুর টেনশন শুরু হয়ে যেত, ‘শিপ্রারে কাইল দেখলাম না ক্যা।’
বিজ্ঞাপন

তিনি লেখেন, ‘ঠাম্মা কুশি কাটায় সুন্দর জামার গলার বুনে দিতেন। অনেক দিন দেখা না হলেও আমি সবাইকে মিস করি এখনো। গতদিন আমার উপজেলার ৯টা পুজা মন্ডবে শুভেচ্ছা বিনিময়ে গিয়েছি। উনাদের সবার আন্তরিকতা যা ছিলো সেটা সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলো না, কোনো রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও না। একটা তীব্র মায়া একটা স্নেহ ছিলো।’
‘আমার প্রিয় শিপ্রা পিসি, আমার প্রিয় কাকি সুদেবের মা। এখনো দেখা হলে গলা জড়িয়ে আদর করেন। এখনো আমাকে ‘মনু’ বলেই ডাকে। মানুষের পরিচয় যে ধর্ম দিয়ে আলাদা হতে পারে, সেই বোধটুকু আমার শৈশবে ছিল না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এখন বড় হয়েছি, জনগণের প্রতিনিধি হয়েছি। এমপি হিসেবে আমার দায়িত্ব আমার সনাতনী ভাইবোনদের আনন্দের দিনে তাদের খোঁজ নেওয়া, তাদের পাশে থাকা। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এটা আমার প্রতি নির্দেশ, এটা আমার দায়িত্ব।’
বিজ্ঞাপন
‘বাংলাদেশ বরাবরই সম্প্রীতির নিদর্শন। অশুভ শক্তির কোনো ষড়যন্ত্রই এই সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে পূজামণ্ডপে পাহারার প্রয়োজন হবে না। সবাই নির্ভয়ে যার যার ধর্ম পালন করবে, নিজের বিশ্বাস নিয়ে বাঁচবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে একজন নারী যে পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, সেই পোশাকের জন্য তাকে কটু কথা শুনতে হবে না, অপমানিত হতে হবে না। এমনকি আমার ধর্মও কাউকে পোশাকের জন্য অপমান করতে বলে না।’
‘আমাদের দেশের সনাতনী ভাইবোনদের প্রতিটি উৎসব আনন্দে এবং নির্বিঘ্নে কাটুক আমাদের সম্পর্কগুলো আজীবন সেই ছোটবেলার মতো থাকুক, এই প্রত্যাশায়।’
এমআরএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
