গত কিছুদিন একে অপরের তৈল শোধনাগার এবং শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। যদিও রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শক্তিসম্পদে হামলা নিয়ে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। এই বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চমকপ্রদ মন্তব্য, ‘খবরটা জানতে পেরে খুশি হলাম’। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি মনগড়া ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প? পুতিন-জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা না করেই?
শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। নিজস্ব সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে তিনি লেখেন, ‘রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে এনার্জি সিজফায়ার হয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশ একে অপরের শক্তিসম্পদ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না। দুই দেশ রাজি হয়েছে এবং এই মুহূর্ত থেকেই নতুন সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছে।’ পরিচিত ভঙ্গিমায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন কোরো না যেন।’ ট্রাম্প বলেছেন বটে দুই দেশের সম্মতিতে সংঘর্ষবিরতি হয়েছে। যাদের নিয়ে এত কথা তাঁদের বক্তব্য কী?
I just spoke with @MarkJCarney, @alexstubb, and @SecGenNATO Mark Rutte. We discussed the energy ceasefire announced by President Trump. Ukraine supports the ceasefire, and it is important that Russia support it as well. We are awaiting details from the American side. For our part, Ukraine always FULLY supports steps toward de-escalation, the protection of lives, and the decisions needed to end the war and guarantee lasting peace. Thank you!
— Volodymyr Zelenskyy / Володимир Зеленський (@ZelenskyyUa) October 11, 2026
সংবাদমাধ্যম অক্সিওসকে জেলেনস্কি জানালেন সংঘর্ষবিরতির বিষয়টি তাঁর কাছেও খবর। যদিও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “তবে রাশিয়া যদি জ্বালানি-সংক্রান্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, তবে ইউক্রেনও তাতে রাজি হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি পুতিনের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা করেন— তবে দয়া করে আমাদেরও জানাবেন কখন সেই যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। আমরা প্রস্তুত এবং আমরা তা মেনে নেব।”
এক্স হ্যান্ডেল আলাদা একটি পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে তিনি কানাডার প্রেসিডেন্ট মার্ক কার্নি, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স স্টাবের সঙ্গে কথা বলেছেন। যদিও এরপরেই একটি পোস্টে জেলেনস্কি জানান, ট্রাম্পের সংঘর্ষবিরতি সংক্রান্ত বাণীর পরেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কীসের ভিত্তিতে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে লম্বাচওড়া ভাষণ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
