দেশের নদীভাঙন রোধ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাড়ে ৮ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের বৃহৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে জামালপুর, বরগুনা, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ ভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ ফেলা এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজের সুপারিশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
আগামী ১১ ডিসেম্বর ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় এটি নবায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
আগামী ১১ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এটি নবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ১৯৭৭ সালে প্রথম স্বাক্ষরিত এ চুক্তিটি দেশের পানিসম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের নদী ও খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখননের একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
মন্ত্রণালয়ের অধীন চলমান ৯৩টি প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রয়েছে ৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে বন্ধ ও ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লুইসগেট সংস্কার, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন গেট নির্মাণ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবৈধ দখলে থাকা জমি উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের সব খালের সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণে ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র ও ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ নদী-খাল পুনরায় যাচাই করে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি এবং ভরাট নদী পুনঃখননের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন জানান, সংসদ সদস্যদের ডিও লেটারের ভিত্তিতে সাড়ে ৮ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশের সব খালের সঠিক সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণে জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র ও ডেটাবেজ তৈরির জন্য আনুমানিক ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি স্টাডি প্রজেক্টও নেওয়া হচ্ছে। এটি সরাসরি খাল খননের মূল প্রকল্প নয়।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে এ বিষয়ে বৈঠক শেষে চলতি মাসেই পরিকল্পনা কমিশনে ডিপিপি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এলাকাভিত্তিক অগ্রাধিকারের তালিকা সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান সচিব। কমিটির সুপারিশে নদী ও খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত ডিপিপি পাঠানোর পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। উন্নয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়া গুরুত্বপূর্ণ নদী ও খালগুলো পুনরায় যাচাই করে প্রকল্পে যুক্ত করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু তার নির্বাচনী এলাকায় যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কৃষিজমি বিলীন হওয়া এবং মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জামালপুরকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে নদীর তীর রক্ষা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।
চলমান ৯৩টি প্রকল্পে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় মন্ত্রণালয়ের ৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। দেশের খালগুলোর সঠিক সীমানা ও নিখুঁত অবস্থান নির্ধারণের জন্য ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি জিআইএসভিত্তিক মানচিত্র ও ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির স্টাডি প্রজেক্ট নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পানিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কমিটির সদস্যরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইসলামপুরের কুলকান্দি ইউনিয়ন থেকে বেলকাছা, পাতুর্শী, চিনেরচর ও নোয়ারপাড়া পর্যন্ত নদীভাঙন প্রবণ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২১ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ ত্বরান্বিত করার জন্যও প্রতিমন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, জামালপুরে নদীভাঙন প্রতিরোধে বাঁশ বান্ডলিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দশানী, জিনজিরাম ও যমুনার শাখা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে এ পদ্ধতিতে কাজ চলছে। জেলার চারটি প্রকল্পের মধ্যে একটি অনুমোদিত হয়েছে। বাকি তিনটি ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত থাকায় দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।
কমিটির সুপারিশে জামালপুরসহ ভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, প্রতিরক্ষামূলক কাজ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলা এবং বাঁশ বান্ডলিং পদ্ধতি প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কুতুবদিয়া ছোট হয়ে ৩৩ বর্গকিলোমিটার
কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বৈঠকে বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও কক্সবাজার এলাকার বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী দ্বীপে সাগরের উত্তাল ঢেউ ও নদীভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। একসময় কুতুবদিয়ার আয়তন ছিল ১০০ বর্গকিলোমিটার, যা কমে এখন ৩৩ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। তিনি টেকসই বেড়িবাঁধ, প্রতিরক্ষামূলক কাজ এবং ব্লুইসগেট মেরামতের ওপর গুরুত্ব দেন। রেলপথ নির্মাণে পর্যাপ্ত সেতু না রাখার কারণে জলাবদ্ধতা ও বন্যা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সুইচগেট রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বহীনতার কারণে স্থানীয় ইউনিয়নগুলোতে বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে জানান। কমিটির আলোচনায় কুতুবদিয়া ও অন্যান্য এলাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প এবং সুইচগেটের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
সাতক্ষীরায় ৫০০ একর জমিতে জলাবদ্ধতা
সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ তার এলাকার তালা উপজেলার ৩ নম্বর সরুলিয়া ইউনিয়নের বরকাশিপুর-শাখিন এলাকায় প্রায় ৫০০ একর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অতিবৃষ্টিতে কপোতাক্ষ নদের সংলগ্ন এসব জমির ফসল প্রতিবছর তলিয়ে যায়।
জলবায়ু পরিবর্তন ও সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার আয়তন আশঙ্কাজনকভাবে ১০০ বর্গকিলোমিটার থেকে কমে মাত্র ৩৩ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই ভৌগোলিক বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া জামালপুর, বরগুনা, ফেনী ও সাতক্ষীরার নদীভাঙন ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিয়ে এমপিরা তথ্য তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত স্লুইসগেট মেরামত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দ্রুত জিও ব্যাগ ও বাঁশ বান্ডলিং প্রযুক্তি ব্যবহারের জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে খালের মুখে চারটি ব্লুইসগেট স্থাপনের জন্য তিনি ডিও লেটার জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া সাতক্ষীরা এলাকার চারটি খাল সরকারের চলমান উন্নয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো খাল যাতে তালিকার বাইরে না থাকে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার মাধ্যমে বাদ পড়া বা গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। সাতক্ষীরার চারটি খালের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বরগুনার তিন ইউনিয়ন রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি
বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহ জানান, তার এলাকায় দুটি বড় প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে বরগুনা, চট্টগ্রাম ও খুলনা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বরগুনার তিনটি ইউনিয়নকে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। বরগুনা-১ ও বরগুনা-২ আসনের সীমান্তবর্তী তিন দিঘি নদীসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাকা রাস্তা, সাইক্লোন শেল্টার ও সুইচগেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। সেখানে অন্তত আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং প্রয়োজনীয় সুইচগেট নির্মাণ করা হলে হাজার হাজার একর জমির ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানান। এ বিষয়ে ডিও লেটার ও সুপারিশ জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
ফেনী-নোয়াখালী-কুমিল্লার বন্যা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম বলেন, ২০২৪ সালের বন্যায় পরশুরাম, ছাগলনাইয়া ও ফেনী অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যার কারণে নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলও প্লাবিত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি চিহ্নিত স্থানে দ্রুত সুইচগেট স্থাপন এবং দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকা এলাকায় সমন্বিত উন্নয়নমূলক কাজের দাবি জানান। সরকারি বরাদ্দ ও টিআর-কাবিখা তহবিলের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩০০টির বেশি রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাসের কারণে রূপগঞ্জ পানি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ এখন কালীগঞ্জ এলাকার অধীন। দীর্ঘদিন খাল সংস্কার না করায় পানিনিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। ফ্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চ্যানেল বন্ধ থাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত খাল সংস্কার এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পানি নিষ্কাশন ও কৃষিকাজ পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে জানান, জাপানের জাইকার সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে রূপগঞ্জে সেচ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। আগে সেখানে বিপুল পরিমাণ ধান ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হলেও বর্তমানে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে সেই পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাজ খাল খনন, পাম্প স্থাপন ও নদীর স্রোত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন
ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে কাজ করছে সরকার
বৈঠকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, আগামী ১১ ডিসেম্বর ২০২৬ ফারাক্কা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। সরকার চুক্তিটি নবায়নের জন্য কাজ করছে। ১৯৭৭ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে হওয়া চুক্তিটিকে তিনি বাংলাদেশের জন্য অন্যতম লাভজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়েও কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন এবং পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য অর্জনে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জরুরি বাঁধ সংস্কার, বন্যা মোকাবিলা এবং জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চলমান ৯৩ প্রকল্পে বরাদ্দ ৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা
বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) খোন্দকার আজিম আহমেদ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে দেশের নদীব্যবস্থা, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা এবং মোট ১ হাজার ৪১৫টি নদীর ভৌগোলিক বিন্যাস তুলে ধরেন।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজের মধ্যে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন রোধ, জমি পুনরুদ্ধার, সেচ এবং সীমান্ত নদীর পানি বণ্টন ব্যবস্থাপনা। মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোর চলমান ৯৩টি প্রকল্পের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা নতুন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন
মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত। বাকি কাজ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। আন্তর্জাতিক নদী ও গঙ্গা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিচালনার কারণে যৌথ নদী কমিশনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকের সূত্র মতে জানা গেছে, কমিটির সুপারিশে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজের মতো জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সীমান্ত নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা ও যৌথ নদী কমিশনের আওতাধীন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।
সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন বলেন, বর্ষা মৌসুমের পর দেশের কোন কোন অঞ্চলে নদীভাঙন ও পানিসংক্রান্ত সমস্যা সবচেয়ে জটিল হয়ে উঠছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরলে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে।
বৈঠকের কার্যবিবরণী অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সমস্যা সমাধানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং কমিটির সদস্যরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাজে ভুলত্রুটি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এমএসআই/এমএন
