১ হাজার টাকায় শেষরাতে চবিতে দুই পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
শেষরাতে ১ হাজার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের রেলস্টেশন এলাকায় দুই মেয়ে পথশিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৪-৫ জন বহিরাগতের বিরুদ্ধে। রবিবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দেয় শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাকসুদ আলী। তার পকেটে পাওয়া পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বাবার নাম আব্দুল জলিল ও মায়ের নাম দিলারা বেগম। বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়া গ্রামে। চবির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী মিনহাজ আলম সৌরভ বলেন, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছিল দুই পথশিশু। তাদের একজনের বয়স আনুমানিক ১৩-১৪ বছর এবং আরেকজনের ১০ বছরের কম। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪-৫ জন ব্যক্তি তাদের কাছে গিয়ে এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে যেতে বলে। শিশুদুটি রাজি না হলে তাদের মুখ চেপে ধরে এবং হাত-পা ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে শিশুদুটি চিৎকার শুরু করলে পাশ দিয়ে যাওয়া স্থানীয় এক ব্যক্তি সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। তার উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে ওই ব্যক্তি শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে সকালে শিশুদুটিকে নিয়ে আবার স্টেশনে ফিরে গেলে অভিযুক্তদের একজনকে সেখানে দেখতে পান ওই ব্যক্তি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির এক প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন যেকোনো স্থানে শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা দপ্তরের। ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চলমান থাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের কিছুটা সংকট থাকতে পারে। তবে সেটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে না। চবি প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, বিশেষ করে রাতে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার সময় স্টেশন এলাকায় কিছু ভাসমান মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে স্টেশন এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করতে টহলদলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশের অধীনে রয়েছে। তারা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: / ৩৪ বছরের অগ্রযাত্রা ও আগামীর প্রত্যয়: প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং একমাত্র দূরশিক্ষণভিত্তিক বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের মতো জনবহুল, ভৌগোলিক বৈচ্রিত্র্যপূর্ণ ও আর্থ-সামাজিকভাবে অসম একটি দেশে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প ও নমনীয় শিক্ষাধারার প্রয়োজনীয়তার বাস্তবতা থেকেই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। ১৯৭৮ সালে স্কুল ব্রডকাস্টিং পাইলট প্রকল্প, ১৯৮৩ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডিস্ট্যান্স এডুকেশন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দূরশিক্ষার যে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে উঠেছিল, বাউবি তারই বিকশিত রূপ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন হলো ‘সবার জন্য শিক্ষা’ (Education for All) এবং কর্মমুখী জীবনব্যাপী শিক্ষার (Lifelong Learning) সুযোগ নিশ্চিত করা। এই দর্শনের অন্তর্নিহিত প্রত্যয় হচ্ছে—শিক্ষা কোনো নির্দিষ্ট বয়স, শ্রেণি, পেশা কিংবা ভৌগোলিক অবস্থানের মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষার দ্বার থাকবে উন্মুক্ত। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যারা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন কিংবা নিয়মিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন না, তাঁদের জন্য নমনীয় ও দূরশিক্ষণভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাউবি প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে সময়, স্থান ও আর্থিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মানসম্মত শিক্ষা সহজলভ্য করা, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, কর্মমুখী জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে মানবসম্পদকে সমৃদ্ধ করা এবং শিক্ষা ও কর্মজীবনের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন রচনা করা- এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষকে জীবনব্যাপী জ্ঞানার্জন, আত্মোন্নয়ন ও সক্ষমতা বিকাশে উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মৌলিক অভীষ্ট। বাউবি তার অগ্রযাত্রার ৩৪তম বর্ষে উপনীত হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে এক যুগান্তকারী স্থান দখল করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল ‘স্কুল অব এডুকেশন’-এর বিএড প্রোগ্রাম প্রবর্তনের মাধ্যমে। সময়ে আবর্তে বাউবি আজ একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিক থেকে এক বিশাল মহীরূহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বাউবিতে স্কুল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭টিতে। এগুলো হলো- স্কুল অব এডুকেশন, স্কুল অব সোস্যাল সাইন্সেস হিউম্যনিটিজ এন্ড ল্যাঙ্গয়েজ, ওপেন স্কুল, স্কুল অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি, স্কুল অব বিজনেস, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলমেন্ট এবং স্কুল অব ল। এই স্কুলগুলোর অধীনে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), স্নাতক (পাস কোর্স), স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি এবং বিভিন্ন পেশাভিত্তিক ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স পরিচালিত হচ্ছে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান মতে, বর্তমানে বাউবিতে ৫৫টি একাডেমিক প্রোগ্রামে দূরশিক্ষণ বা ওপেন অ্যান্ড ডিস্ট্যান্স লার্নিং (ঙউখ) পদ্ধতি ও ব্লান্ডেড প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। একাডেমিক সম্প্রসারণের আওতায় বিভিন্ন স্কুলে আরও বেশ কিছু প্রোগ্রাম চালু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শুধু একাডেমিক কার্যক্রমেই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রেও বাউবি প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। গাজীপুরে অবস্থিত মূল ক্যাম্পাসের পাশাপাশি সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়টির রয়েছে ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র এবং প্রায় দেড় হাজার স্টাডি সেন্টার। এই বিস্তৃত শিক্ষা নেটওয়ার্ক বাউবিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত আসন ও নির্দিষ্ট ক্যাম্পাসনির্ভরতার বিপরীতে বাউবির বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। পাঠ্যসামগ্রী প্রণয়ন, মুদ্রিত ও ইলেকট্রনিক শিক্ষাউপকরণ তৈরি, নিজস্ব আধুনিক মিডিয়া সেন্টারে মাধ্যমে অডিও-ভিডিও কন্টেন্ট নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তা প্রচার, টিউটোরিয়াল কার্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীসেবা প্রদানের জন্য স্বতন্ত্র পরিচালনব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। শুধু দেশের গণ্ডিতেই আজ বাউবির শিক্ষা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাইরে ইতোমধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও ৪টি দেশে বাউবি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে তাদের পেশাগ্রত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। দেশ ও দেশের বাইরে বাউবির এই ভৌগোলিক বিস্তার এর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার পরিচায়ক। বাউবির একাডেমিক কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে Institute of Technical and Vocational Education and Training (ITVET)। কর্মমুখী ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ শিক্ষা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা বৃদ্ধি করে- যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে অত্যন্ত সহায়ক। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই শিক্ষার মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব হ্রাস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। এই বাস্তব প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় নিয়েই বাউবি প্রতিষ্ঠা করেছে ITVET। এতে সরকারের শিক্ষানীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তৃতীয় ভাষা শিক্ষারও সুযোগ থাকবে। বাংলাদেশের কওমি ধারার মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আধুনিক ও দেশের মূল ধারা শিক্ষা ব্যবস্থার সায়থ যুক্ত করার লক্ষ্যে ‘নিশ -৩’ প্রোগ্রামের আওতায় চালু হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি প্রোগ্রাম। এজন্য তাদের চাহিদা সাথে সঙ্গতি রেখে অশিীজন ও বিশেষজ্ঞ সহায়তায় কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রণয়ন সমপন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালে জানুয়ারি মাসে এ শিক্ষার সূচনা হলে তা বাংলাদেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে নব দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করবে। অবিরত চর্চার মাধ্যমে বিদ্যমান জ্ঞানের বিকাশ ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃজন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অভিষ্ট লক্ষ্য এবং দায়িত্ব। বাউবি এক্ষেত্রেও তার সক্ষমতার প্রমাণ রাখছে। কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য বাউবিতে রয়েছে কয়েকটি সমৃদ্ধ গবেষণাগার। দেশি-বিদেশি বিভ্ন্নি বিশ্ববিদ্যলয়সহ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে বাউবি গবেষণা বিনিময়সহ একাডেমিক উৎকর্ষতা বিধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বাংলাদেশের অন্যতম খ্যাতিমান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব বায়োটেনোলজির সাথে বাউবির সমঝোতা স্মারক সম্পাদন বাউবির জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গবেষণার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের প্রচার ও প্রসারের জন্য উঙও নম্বর যুক্ত একটি কেন্দ্রীয় জার্নালসহ এবং ৭টি স্কুলের নিজস্ব জার্নাল প্রকাশ নিয়মিতকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণেও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বাউবির ডিজিটাল রূপান্তর এখন সময়ের অনিবার্য দাবি। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। অনলাইন ভর্তি ও নিবন্ধন, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী, ই-অ্যাটেনডেন্স, পরীক্ষা ও ফলাফল ব্যবস্থাপনা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনিক অটোমেশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসেবা সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা সম্ভব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাউবি তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজার ও জাতীয় উন্নয়নের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়ন, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা এবং ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। স্বল্পমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়ন কোর্স, মাইক্রোক্রেডেনশিয়াল ও পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি নারী, প্রতিবন্ধী, প্রান্তিক ও কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারেও প্রশাসন সচেতন। সম্পূর্ণ ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় মুদ্রিত পাঠ্যসামগ্রীর পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ক্লাউডভিত্তিক পোর্টালের ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা যেকোনো স্থান থেকে পাঠদান ও শিক্ষাসেবায় যুক্ত হতে পারেন। এ জন্য শিক্ষকদের ডিজিটাল পেডাগজি ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ এবং আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক ও স্টাডি সেন্টারগুলোকে উচ্চগতির ইন্টারনেটসমৃদ্ধ ‘স্মার্ট লার্নিং হাব’-এ রূপান্তর করা জরুরি। পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে যৌথ কোর্স, গবেষণা এবং শিক্ষাসামগ্রী বিনিময় বাড়ানো প্রয়োজন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার বৃদ্ধির লক্ষে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ই-নথি এবং সম্পূর্ণ অটোমেশন বাস্তবায়ন করা জরুরি। এতে শিক্ষার্থী সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অতীতের অর্জন উদ্যাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্ব ও সম্ভাবনাকে নতুন করে উপলব্ধি করার এক তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ। এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের প্রত্যাশা, বাউবি তার প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন—সবার জন্য শিক্ষা, সুযোগের সমতা ও জীবনব্যাপী জ্ঞানচর্চাকে ধারণ করে একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে। যেখানে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গুণগত উৎকর্ষ, একাডেমিক মান, উদ্ভাবন ও শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গবেষণার উৎকর্ষ, দক্ষ মানবসম্পদ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে বাউবি হবে একটি বিশ্বমানের জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠন। লেখক: উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, email. [email protected]

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ
প্রথমবারের মতো ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) ২০২৫ সালের প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ফাইনাল পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. শহিদুল্লাহর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রুটিন প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে অনার্স ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ১ বর্ষের পরীক্ষা শুরু হবে। আর ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে বিজ্ঞান অনুষদের গণিত নন মেজর পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত ৭ (সাত) কলেজের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষা-২০২৫ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। এতে জানানো হয়, প্রতিদিন দুপুর ১টায় পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষার সমাপ্তির সময় প্রবেশপত্রে উল্লিখিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত থাকবে। প্রকাশিত রুটিনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত রাজধানীর সাতটি কলেজের বাংলা, ইংরেজি, আরবি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, ইসলামিক স্টাডিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, অর্থনীতি, মার্কেটিং, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, গণিত, ভূগোল ও পরিবেশ এবং মনোবিজ্ঞানসহ ২৪ টি বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য তিনটি নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা নিষিদ্ধ। পরীক্ষার হলে কোনো পরীক্ষার্থীকে বই, নোট বা অন্য কোনো লিখিত সামগ্রী বহন করতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রবেশপত্রে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা কলেজ কলেজের পরীক্ষার্থীদের ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে, সরকারি তিতুমীর কলেজের পরীক্ষার্থীদের সরকারি বাঙলা কলেজ কেন্দ্রে, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ পরীক্ষার্থীদের ইডেন মহিলা কেন্দ্রে, ইডেন মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থীদের ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ কলেজের পরীক্ষার্থীদের কবি নজরুল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এবং কবি নজরুল সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থীদের সোহরাওয়ার্দী কলেজ কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনাগুলো মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি,এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্র একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। একটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটিয়ে অন্য ক্ষেত্রগুলোকে উপেক্ষা করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের যৌথ আয়োজনে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ (মাঠপর্যায় থেকে সংস্কার: বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রযাত্রা) শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক মাসে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মকর্তা, মনিটরিং কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ৬০ ঘণ্টার বেশি আলোচনা হয়েছে। তিন হাজারের বেশি অংশীজনের মতামত ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মনিটরিং কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং দেড় হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা ও মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব আলোচনা ও মতামত থেকে প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যা, অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া গেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর লক্ষ্যে শিখনফলভিত্তিক ও শিশুবান্ধব শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলা, গণিত ও ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলনাভিত্তিক শিক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ব্যবহারিক শিখন কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিখন-সময়ের বৈষম্য কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগ, প্রাক্-চাকরি প্রশিক্ষণ, পদায়ন, পেশাগত উন্নয়ন ও মূল্যায়নকে সমন্বিত করে শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করা, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের মূল্যায়ন পৃথক রাখা এবং উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে জনবলসংকট ও অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে বিদ্যালয় তদারকি আরও কার্যকর করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১১ ধাপের বিদ্যালয় পরিদর্শন পদ্ধতি এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনিটরিংয়ের মূল লক্ষ্য হবে শুধু প্রতিবেদন তৈরি নয়, বরং শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিখন নিশ্চিত করা। প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো শুধু ভবননির্ভর হলে চলবে না; শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা শিশুদের উপযোগী করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিশুবান্ধব শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ ও পাহাড়ি অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল কনটেন্ট, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিংকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে, যাতে শিক্ষকদের কাজ সহজ হয় এবং শিক্ষার্থীদের শিখন উন্নত হয়। তিনি জানান, জাতীয় সংলাপে উঠে আসা সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিটি শিশুর প্রকৃত শিখন, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ নিশ্চিত করতে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি জানান, শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং প্রথম অর্থবছরেই এ খাতে ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাঁরা শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে পাঠদান করতে পারেন। আগামী দুই বছরে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা, শিক্ষকস্বল্পতা দূর করা এবং তাঁদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের দলভিত্তিক আলোচনা ও পারস্পরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং পাঠ্যবিষয়ের ব্যাপ্তির চেয়ে শিখনের গভীরতা ও গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী । জাতীয় সংলাপে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠার ১৮ বছরেও বেরোবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নেই রিডিং রুম, বারান্দায় পড়েন শিক্ষার্থীরা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পার করলেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে নেই আলাদা রিডিং রুম। ফলে চাকরির প্রস্তুতির বই কিংবা নিজস্ব সংগ্রহের বই নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। বাধ্য হয়ে লাইব্রেরির বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছেন অনেকে। এতে তাদের রোদ-বৃষ্টিসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট ও অটোমেশন ব্যবস্থা চালু না হওয়ায় লাইব্রেরির পাঠকসেবা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি দুই তলাবিশিষ্ট। নিচতলায় রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব ও আর্কাইভ। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে অনুষদভিত্তিক পাঠকক্ষ ও জার্নাল কর্নার। তবে চাকরির প্রস্তুতির বই কিংবা নিজস্ব সংগ্রহের বই নিয়ে পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো রিডিং রুম নেই। ফলে লাইব্রেরির বারান্দায় বসেই পড়াশোনা করছেন শিক্ষার্থীরা। লাইব্রেরির ভেতরে তুলনামূলক কমসংখ্যক শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগভিত্তিক প্রয়োজনীয় বইয়ের সংকট রয়েছে। পাশাপাশি নতুন সংস্করণের বই না থাকায় একাডেমিক পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। অন্যদিকে, লাইব্রেরির বাইরের বারান্দায় তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা করতে দেখা যায়। তাঁদের কেউ চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ একাডেমিক পড়াশোনায় ব্যস্ত। তবে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকা এবং রোদ-বৃষ্টির কারণে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা সাতটার পর লাইব্রেরি বন্ধ হয়ে গেলে বারান্দায় পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের শৌচাগার ব্যবহারের জন্য ক্যাফেটেরিয়া এলাকা কিংবা আবাসিক হলে যেতে হয়। এ সমস্যা সমাধানের দাবিতে তাঁরা একাধিকবার আন্দোলন করেছেন। এমনকি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি শৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে লাইব্রেরির পরিসর সম্প্রসারণ, সাইকেল রাখার গ্যারেজ নির্মাণ এবং পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে টিউবওয়েল সংস্কারের মতো বিষয়গুলো এখনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে লাইব্রেরিতে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি রয়েই গেছে৷ এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পার হলেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে চালু হয়নি অটোমেশন ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সার্ভার কেনা হলেও সেটি এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা চালু না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সাবেরা শাপলা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অন্যতম প্রধান জায়গা। কিন্তু বাইরে থেকে বই নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে পড়তে দেওয়া হয় না। আবার আলাদা রিডিং রুম না থাকায় চাকরির প্রস্তুতি কিংবা নিজস্ব বই নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে বারান্দায় বসে পড়তে হয়। রোদ-বৃষ্টির সময় সেখানে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হোক। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী মমিন ইসলাম বলেন, লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় অনেক বই ও নতুন সংস্করণের বই পাওয়া যায় না। অটোমেশন ব্যবস্থাও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, লাইব্রেরির পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ, অটোমেশন চালু এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের গ্রন্থাগারিক ড. মো.মনিরুজ্জামান বলেন, লাইব্রেরিতে আমরা অনেক উন্নয়নকাজ করছি। যেমন, শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে এবং লাইব্রেরি আধুনিকায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। আর আমার সাথে সরাসরি কথা বলবেন। সরাসরি কথা বলা ছাড়া এসব বিষয়ে আমি কথা বলতে চায় না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

