Published on
:
6 min read
তৃষ্ণা বসাক
‘ইয়ে কোয়ি মামুলি চিজ় নহি হ্যায় স্যরজি। এমন উমদা জিনিস হেলাফেলা করে পাকানো যায় না, বিস্তর তোয়াজ লাগে বানাতে। এই চিজ় দুনিয়ায় একমাত্র লাহোরেই পাবেন, খুদার কসম।’
মিয়াঁ সাহেবের হাত আর মুখ একসঙ্গে চলছিল। বিশাল তাওয়ার সামনে দাঁড়িয়ে হাতের কেরামতি দেখাতে দেখাতে উনি সমানে কথা বলে যাচ্ছিলেন।
পাশ থেকে একজন তরুণ কানে কানে কী বলতে উনি থেমে গেলেন। ওঁর মুখে ফুটে উঠল রাগ আর বিরক্তি।
‘ওহ্, ওই সব কানে তার গোঁজাগুলো। হাতে ফোন থাকলেই ভাবে দুনিয়ার সব কিছুই এরা জানে। খালি হোটেলে ঢুকে একেবারে আমাদের গায়ের ওপর উঠে আসবে। পুছতাছ করে করে কানের পোকা বার করে দেবে। খাবারের ছবি তুলে তুলে ছাড়ে সব জায়গায়। কাশেমকে কে নাকি বলে গেছে, কাটা কাট এখন কোথায় কোথায় পাওয়া যাচ্ছে, এ এখন স্রিফ লাহোরের নেই। দেখাক আমাকে। দেখাতে পারলে নিজের এই হাত কেটে দেব। যত্ত উজবুগের দল। বেফজ়ুল কথা বলে সময় বরবাদ করে। কাশেম মশল্লার জায়গাটা দে।’
তার পর আমাকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন। ‘খাসির মগজ, কিডনি, হার্ট, লিভার, ফুসফুস— কুছ সমঝা? ভেড়ার হলেও দিব্যি হয়। সব অংশের গোস্ত মিলিয়ে মিশিয়েই এই খানা। কাটা কাট। অনেকে টাকা-টাকও বলে। এই নামটাও এমনি এমনি হয়নি। এর পেছনে আছে কিস্সা।’ বলে আমার দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসি হাসেন রশিদ মিয়াঁ। একটু চুপ করে থাকেন কিংবদন্তি জাদুকরদের মতো। তার পর যেন দারুণ একটা গোপন কথা বলছেন, এই ভাবে বলেন, ‘এই রকম ছড়ানো লোহার তাওয়ায় এই গোস্ত পাকানোর সময়ে সমানে দু’হাতে দুটো বড় খুন্তি দিয়ে মাংস ভেঙে ভেঙে দিতে হয় জনাব। আর তার কী আওয়াজ! কাটা কাট, কাটা কাট। তাই এ রকম নাম। পরোটা দিয়ে খান, রুমালি রুটি, চাই কি নান দিয়ে খান। পুরা বেহেশ্ত!’
আমি ভাবছিলাম, যে এই নাম দিয়েছিল, কাটা কাট, তার একটুও কল্পনাশক্তি ছিল না। অন্তত গোস্ত লাহোরি দিলে কী হতো? লাহোরে কি কবি লেখকের এতই অভাব ছিল? আমি বলি, ‘কতক্ষণ লাগবে চাচা? সামনের রাস্তাটায় একটু ঘুরে আসি বরং...’
কাশেম বলে বাচ্চা ছেলেটা, দেখতে অবিকল সলমন খানের তরুণ বয়সের মতো, বলে, ‘দেখবেন না, কী করে কাটা কাট বানায় চাচা? আধা ঘণ্টা মতো লাগে। রশিদ চাচার হাতের কাটা কাট খেতে দূরদূরান্ত থেকে লাহোরে আসে কত লোক!’
আমি ভাবছিলাম, আমিও তো অনেক দূর থেকে এসেছি, অন্য দেশ থেকে। একটা সময়ে এটাও আমার দেশ ছিল। এখন ভেঙে তিন-তিনটে দেশ। এখন আমি এখানে বিদেশি। এখানে আসতে মাঝখানে একটা দেশ ডিঙোতে হয়েছে আমাকে।
লাহোরে এলেও এখানে আমার খেতে আসার কথা ছিল না। ওই যে রশিদ মিয়াঁ বলল, ফোন হাতে খাবারের ছবি তুলতে আসা ছেলে-ছোকরার দল, ওই রকম কারও একটা ব্লগ দেখেই আমার আজ ইচ্ছে হলো কাটা কাট খাব। অনেক বছর আগে লুৎফর ভাই বলেছিলেন, তিনি নাকি এটা খেয়ে গেছিলেন এই লাহোরেই। কে জানে এই দোকানেই কি না।
গীতা ভবনের নীচের একটা রেস্তোরাঁর কাটা কাট বিখ্যাত, তিনিই প্রথম বলেছিলেন। ব্লগ দেখে সেটাই মনে পড়ল। এই খাবারটা আর কোথাও পাওয়া যায় কি না, জানি না। আমি অন্তত খাইনি। একটা কাজে লাহোরে যখন আসতেই হলো, আগেই ভেবে রেখেছিলাম, এটা খাবই।
কুকিং টাইম আধা ঘণ্টা! শুনে আমি ভাবলাম, হেঁটেই আসি আশপাশটা। দোকানের মধ্যে বেশ ভিড়। এসি নেই। বেশ কষ্ট হচ্ছে। আধ ঘণ্টা এই গরমে বসে থাকার থেকে রাস্তায় ঘোরা ভালো। কী আছে চারপাশে? গুগল চাচাকে সার্চ দিলাম, আর সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে কে যেন বলে উঠল, খোল দো!
অমনি আমি কাটা কাট বানানোর দারুণ স্বাদগন্ধময় চলদৃশ্য না তুলে ঘোরের মধ্যে হাঁটতে থাকি। যে রকম ঘোরের মধ্যে একটা লোক এক রাতের সিদ্ধান্তে বম্বে থেকে লাহোর চলে এসেছিল। অন্ধ রাগ? না অভিমান? কোন শব্দটা সঠিক কে জানে!
হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, কী আশ্চর্য, এই জায়গাটার নাম এখনও পাল্টায়নি কেন? লক্ষ্মীচক লক্ষ্মীচকই আছে। লুৎফর ভাই বলেছিলেন, ১৯৩০ সালে এখানে লক্ষ্মী বিল্ডিং তৈরি করে লক্ষ্মী ইনশিয়োরেন্স কোম্পানি। লক্ষ্মী তো হিন্দুদের সম্পদের দেবী। সেই নাম এখনও একই আছে। যেমন বদলায়নি গীতা ভবনের নাম। রায় বাহাদুর শ্রী গঙ্গারাম সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন, আধুনিক লাহোরের স্থপতি বলা হয় তাঁকে, তাঁর ছেলে সেবক রামের তৈরি গীতা ভবনের নামও বদলানো হয়নি।
বিডন রোড আর হল রোডের মাঝে লক্ষ্মী ম্যানসন। ঢিলছোড়া দূরত্বে মল রোড, গীতা ভবন থেকে দশ-পনেরো মিনিটের রাস্তা। যে গীতা ভবনের নীচতলার রেস্টুরেন্টে আমার জন্যে কাটা কাট তৈরি করছে রশিদ মিয়াঁ। কাশেমকে আমার ফোন নম্বর দিয়ে বলে এসেছি, রেডি হলেই আমাকে যেন ফোন করে।
আসার সময়ে দুপুরের রোদ চড়া ছিল। এখন আস্তে আস্তে হেলে পড়ছে। আমার খুব খিদে পেয়েছে। খিদে পেলে মানুষের নাকি সব সুকুমার বৃত্তি নষ্ট হয়ে যায়। মাথায় ঠা-ঠা রোদ, পেটে খিদে নিয়ে আমি কীসের টানে হেঁটে চলেছি, আমি নিজেও জানি না। আমার মনে পড়ছিল বম্বে থেকে আসার পরে পরে, সেই ১৯৪৮ সালে, তার পরেও কিছু দিন, তার ত্বকে তখনও কাশ্মীরি আপেলের ছটা। আমি যে রাস্তায় হাঁটছি, সে রাস্তাতেই দিনের মধ্যে অজস্রবার হেঁটে যেত হয়তো লোকটা। টাকার জন্য। হাঁটতে হাঁটতে সে রং তার পুড়ে গেছিল, মাথার অত চুলও পাতলা হয়ে এসেছিল। সে-ও হয়তো এমন রোদে পোড়া দুপুরে খিদে চেপে পত্রিকার দপ্তরে দপ্তরে ধর্না দিত…
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দেখি লক্ষ্মী ম্যানসনের ৩১ নম্বর ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। ইটের দেওয়ালে সাদা বর্ডার দেওয়া নীল প্লাক। হাত বোলাই। উর্দু ছাড়াও ইংরেজিতে নামটা লেখা, তাই পড়তে পারলাম, বাংলা ছাড়া এই একটা ভাষাই জানি। তবে উর্দু মেশানো হিন্দি বুঝতে অসুবিধে হয় না।
প্লাকের নীচে লাল ইটের দেয়ালে চক খড়ি দিয়ে কী সব লেখা। আমি হাত বুলিয়ে এই বাড়ির অন্দরে তলিয়ে যাওয়া সময়ের বুকের শব্দ বুঝতে চাইছিলাম। এখানে বুঝি দরজার ও-পারে সেই লোকটা ঘুমিয়ে আছে, গল্পের সব রহস্য ঘুমিয়ে আছে তার বুকের নীচে। কে বেশি বড় গল্পকার? সে না খোদা? কে জানে এপিটাফে এই কথাগুলো রাখা গেল না কেন!
এ দিকে তো পর পর ফিল্ম কোম্পানির অফিস। কাগজের অফিস। কতবার হেঁটেছে লোকটা। হাঁটতে হাঁটতে চমকে উঠেছে, ওই তো নিসবাত রোডের বাঁক থেকে মুচকি হেসে এগিয়ে আসছে ইসমত। শ্যাম এসে পিঠে চাপড় মেরে বলছে, ‘শালা অন্ধের মতো পথ চলছিস, এখনই তো চাপা পড়তিস। আরে, ওই কথাটা ধরে বসে রইলি, বলেও এলি না একবার, এর জন্যেই তো তোকে খুন করতে ইচ্ছে করছে।’
অশোককুমারের চারদিকে ভক্তের ভিড় জমে গেছে, তিনি তার মধ্যেই হাত নেড়ে ডাকছেন, ‘তোমার জন্যে আমি সব গুছিয়ে রেখেছি। এখনই ফিরে চলো।‘
ফোনের শব্দে চমকে উঠি। ফিরতে হবে। রেস্তোরাঁ থেকে ফোন করছে কাশেম।
‘সাব এ গোস্ত ঠান্ডা হয়ে গেলে খাওয়ার মজাই নষ্ট। জলদি আইয়ে।’
ফিরতে ফিরতে স্ক্রোল করি। আর কেউ কি এসেছিল? এসে পড়েছিল এ রাস্তায়? একটা পোস্টে চোখ আটকে যায়। সেখানে এ দেশের এক অধ্যাপক মানুষ লিখেছেন, এই ম্যানসনে কত ভালো ভালো লোক থাকতেন। ভাইপো হামিদ তো ছিলই। তা ছাড়া অমুক অমুক... ইন্ডিয়া থেকে এসে মানুষটা উষ্ণ মেধাবী পরিমণ্ডল পেয়েছিলেন, ব্লা ব্লা ব্লা...। যাঁদের নাম বলেছেন, তাঁদের চিনি না আমি। ব্লগের নীচে একটা কমেন্টে চোখ আটকে যায়। কে একজন লিখেছেন, ঠিক করে জেনে লিখুন জনাব। আমি ছেচল্লিশ বছর আছি ওই বাড়িটায়। আমার নানা ১৯৫১-তে কেনেন এই ফ্ল্যাট। নানির মুখে শুনেছি, ওই যে অমুকের কথা লিখলেন, উনি আদপে ওখানে থাকতেন না। নানি আমাকে বলেছে, কেউ যেত না ওই ৩১ নম্বর ফ্ল্যাটে। বড্ড একলা হয়ে গেছিলেন মানুষটা, বড্ড একলা...
এত তরিবত করে পাক করা কাটা কাট, মশলা, কাঁচা লঙ্কা মাখনের পরতে মোড়া তুলতুলে গোস্ত, কেমন বিস্বাদ লাগে। বারবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, দুটো বড় খুন্তি দিয়ে মাংস ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, একটা বড় তাওয়ায় টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে এক অখণ্ড গোস্ত!
। ২।
সমুদ্রের ধারে বসে ছিল ওরা তিনজন। সাড়ে সাতটা বেজে গেছে। এখনও ঝলমল করছে আলো।
সাফিয়া বলল, ‘বাচ্চাদের স্কুল আছে কাল। উঠতে হবে।’
‘আরে, আর একটু বোসো। সূর্য ডুববে এখনই। দেখে যাই।’
ইসমত আজ খুঁজে খুঁজে একটা নির্জন জায়গা বার করেছে। এ দিকটায় আসেনি কখনও ওরা।
অগস্ট মাস। বাতাস আর্দ্র। কয়েক দিন টানা বৃষ্টির পর আজ একটু রোদ উঠেছে। বম্বের বৃষ্টি এই রকমই। একঘেয়ে পড়তেই থাকে। তাই আজ একটু বৃষ্টি থামতেই ওরা দেরি করেনি একটুও। কয়েক দিন টানা বৃষ্টির মধ্যে অফিস যাওয়াই দায় হয়েছিল সাদাতের। ইসমত আর সাফিয়ার অবশ্য সেই চাপ নেই। কিন্তু বাচ্চাদের কী ভাবে স্কুলে পাঠাবে এই বর্ষায়, জামাকাপড় শুকোচ্ছে না, এ সব নানা কারণে সাফিয়া মনমরা হয়ে ছিল। আজ সে বেশ খুশি। সবচেয়ে খুশি ইসমত। ঢলে আসা সূর্যের আলো মুখে পড়ে তাকে দেখাচ্ছেও চমৎকার। এমনিতে তাকে দেখতে দারুণ কিছু নয়। কিন্তু কী যেন একটা আছে ওর মধ্যে! সাফিয়া বলে মাঝে মাঝে। সাদাত বলে, ‘তুমি ওর প্রেমে পড়েছ নির্ঘাত!’
সাফিয়া হাসে। এখনও তো লোকে, ওদের কেন বিয়ে হলো না, এই নিয়ে চিঠি লেখে!
আজ ওদের দু’জনের সামনে প্রায় কথা বলার সুযোগই পাচ্ছে না সাদাত। কিন্তু তাতে তার কোনও দুঃখ হচ্ছে না। বরং অনেক দিন পর তার খুব ভালো লাগছে। মাঝখানের অন্ধকার দিনগুলো সে ভুলে যেতে চায়। শ্যামের মৃত্যু তাকে চুরমার করে দিয়েছিল। এই শ্যামের একটা কথায় সে নাকি... না, না, হিপতুল্লা থাক তাদের। সাফিয়া আর ইসমত বারবার বলে, সে কোথাও যায়নি। অতিরিক্ত মদ্যপান আর দুশ্চিন্তায় তার অমন মনে হতো। ডিসোসিয়েশন। কে জানে!
কিন্তু তার কেন মনে হয়, সে লাহোরে চলে গেছিল? সাফিয়া কি ভুলে গেছে, সে-ই আগে চলে গেছিল মেয়েদের নিয়ে? সে তো আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল, এই দেশে তার মেয়েরা নিরাপদ নয়। সে বারবার জোর করত, ‘চলো চলো, দিনের শেষে তুমি একজন মুসলমান’!
এ সব শুনে কি তার মনে পড়ত না অশোকের কথা? অশোক সে দিন মুসলমান এলাকার মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালিয়েছিল, আতঙ্কে সে কেঁদে ফেলেছিল এত বড় স্টারের মৃত্যুর জন্যে সে দায়ী হবে ভেবে। অশোক হেসে বলেছিল, ‘তুমি অযথা ঘাবড়াচ্ছ, আর্টিস্টদের ওরা ভালোবাসে।’
তা হলে সে কেন ভাবতে পারল না, সে একজন লেখক, শুধু লেখক? আর কেনই বা ওই ঘটনা মনে থাকলেও বাকি কিছু মনে নেই? কেন সাফিয়া বলছে, তারা কোনও দিন লাহোর যায়নি, বরাবর বম্বে ছিল? লক্ষ্মী ম্যানসনের ৩১ নম্বর ফ্ল্যাট— সব কি মিথ্যে? যাবেই বা কেন খামোখা? লাহোরে থেকে এত বন্ধু, এত কাজ কোথায় পেত সে?
আর অমৃতসর? সেই চকফরিদ, জামিল সিং কাটরা, বারি সাহবের স্কুল অফ থট। লোকটা তবু খাঁটি ছিল বলে মনে হয়। সেই আগা হাশর, জোকার একটা!
‘জানো, নার্গিস অনেক বদলে গেছে।’ সাফিয়া বলল অপ্রাসঙ্গিক ভাবে।
‘আগে আমাদের বাড়িতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলেই যেত। মা মনে হয় আগলে রাখে এখনও, বেবি বেবি করে। কী নাক টানার অভ্যেস ছিল, মনে আছে? সেটাই কাজে লাগিয়ে দিলো বরসাতে রাজ, বাব্বা!’
‘নার্গিসকে আসতে বলতে পারতে আজ, অনেক দিন দেখা হয়নি।’ সাদাত আবছা ভাবে বলে। ইসমত একটু দূরে বসে একমনে বালির একটা ঘর বানাচ্ছিল। তার হাসি পেল এ কথায়। নার্গিস এখন কোথায়? দশ বছর আগেই তো সে চলে গেছে। তার ছেলের এখন খুব নাম শোনা যাচ্ছে। সুনাম আর দুর্নাম, দুই-ই। নাহ্, সাদাতের কী যে হয়েছে। দুনিয়ার কোন খবরই রাখে না। ডান দিকে তাকিয়ে দেখল নিঘাত, নুঝত আর নুসরত— ওরাও বসে গেছে বালির ঘর বানাতে। দূরে ঢেউয়ের মাথায় একটা নৌকো, উঠছে আর পড়ছে, সূর্য ডুবতে বেশি দেরি নেই। কত দিন পর সবাই মিলে একটু বেড়াতে বেরোনো গেল। আজকের সন্ধেটা খুব সুন্দর, ভাবছিল সে!
