আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা। শুক্রবার মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৯। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল কামচাটকা অঞ্চলের ওজারনোভস্কি জনবসতি থেকে প্রায় ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। তবে এই কম্পনের জেরে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিক ভাবে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৭.০ বলে জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৪০ কিলোমিটার। বিভিন্ন ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রাথমিক পরিমাপে এই ধরনের পার্থক্য দেখা যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য ও ভূকম্পন কেন্দ্রগুলির রেকর্ড বিশ্লেষণ করে এই মাত্রা সংশোধন করা হতে পারে।
কেন বারবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কামচাটকা?
কামচাটকা উপদ্বীপ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর অন্তর্গত। এই অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশে বিস্তৃত একটি সক্রিয় ভূকম্পন বলয়। এখানে একাধিক টেকটোনিক পাতের পারস্পরিক সংঘর্ষ ও চলাচলের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ঘটে।
কামচাটকা অঞ্চলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাত উত্তর আমেরিকান পাতের নীচে প্রবেশ করছে। ভূবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় সাবডাকশন। এই পাতগুলির মধ্যে ক্রমাগত চাপ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা সেই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে। আবার সমুদ্রের তলদেশে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ব স্থানচ্যুতি ঘটলে সুনামির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
এর আগেও একাধিকবার ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে এই অঞ্চল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কামচাটকা উপদ্বীপের কাছে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই ঘটনায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক জায়গায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। জাপান ও হাওয়াইয়ের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের কিছু অংশেও ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছিল।
সুনামির আশঙ্কা কতটা?
শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেই যে সুনামি হবে, এমন নয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্র কোথায়, কতটা গভীরে তার উৎপত্তি হয়েছে এবং সমুদ্রের তলদেশে কতটা পরিবর্তন ঘটেছে, তার উপর সুনামির আশঙ্কা নির্ভর করে।
শুক্রবারের ভূমিকম্পের প্রাথমিক রিপোর্টে ক্ষয়ক্ষতি, হতাহতের সংখ্যা কিংবা সুনামি সতর্কতা সংক্রান্ত কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলি। পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে ভূমিকম্পের প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত এই ঘটনায় কোনও নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতি বা সুনামির খবর পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা ঠিক হবে না।
https://www.youtube.com/watch?v=JwFdq_tA9cE
