ইস্পাত খাতে আপনি কীভাবে যুক্ত হলেন এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুললেন?
আমি একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করেছি। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন উপজেলায় আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্মাণকাজ এবং বিক্রয়-বিপণনে জড়িত ছিলাম, উৎপাদনেও ছিলাম। বাংলাদেশের নির্মাণ খাত সম্পর্কে, বিশেষ করে ম্যাক্রো লেভেলে আমার একটা ধারণা আছে। আমি এখন বিএসআরএমে করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করছি।
বর্তমানে দেশে ইস্পাত খাতের ব্যবসা কেমন যাচ্ছে? সামগ্রিক চাহিদা ও বিক্রির প্রবণতা কেমন দেখছেন?
দেশের ইস্পাত খাতের উৎপাদনক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ টন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এ মুহূর্তে উৎপাদন চলছে সক্ষমতার ৫০ শতাংশের নিচে। ৫০ লাখ টন উৎপাদন, মানে এ পরিমাণই বিক্রি হচ্ছে। এতে আমাদের প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের বণ্টন ও সরবরাহে দাম বেশি পড়ছে।
ইস্পাত খাতে এ মুহূর্তে কতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে? সেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বিষয়ে জানতে চাই।
কয়েকটা কোম্পানি আছে যাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেশি। বাকিরা মাঝারি বা তার চেয়ে কম সক্ষমতার। বড় কোম্পানির মধ্যে আছে বিএসআরএম, আবুল খায়ের স্টিল, জিপিএইচ ইস্পাত, রহিম স্টিল, আনোয়ার ইস্পাত।
উৎপাদনক্ষমতার ৫০ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির কারণ কী?
ইস্পাত শিল্পে অনেকেই বিগত বছরগুলোয় উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে। তার কারণ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটা পূর্বাভাস ছিল। সেই পূর্বাভাস থেকে আমাদের অনেক শিল্প-কারখানা, বিশেষ করে ইস্পাত শিল্পের অনেকে উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে।
সাধারণত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস থাকে, ইস্পাত খাতে তার দ্বিগুণ প্রবৃদ্ধি হয়ে থাকে। ধরুন, আমাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ শতাংশ, তাহলে ধরে নিতে হবে ইস্পাত খাতের প্রবৃদ্ধি হবে ১২ শতাংশ। পূর্ববর্তী সরকার দেয়া পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ইস্পাত খাতের অনেকেই উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অনেকগুলো প্রকল্প চলমান ছিল। তিন বছর আগে থেকে প্রকল্প অনেকটাই কমেছে। অনেকগুলো প্রকল্প হয়নি। আমাদের ইস্পাত খাতে যে চাহিদা তৈরি হয়, তার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বৃহৎ ও সরকারি প্রকল্প। আর গত দুই থেকে আড়াই বছরে তো অনেকগুলো প্রকল্প বন্ধই হয়ে আছে। সেই কারণে ইস্পাতের চাহিদা অনেক কমে গেছে। একই সঙ্গে আবাসন বা নির্মাণ খাতেও চাহিদা কমেছে। এ পরিস্থিতি ইস্পাত খাতের সংকোচনের একটা মূল কারণ।
অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা এ খাতের ব্যবসা, মুনাফা ও প্রতিযোগিতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে?
আমাদের শিল্প ব্যাপকভাবে চাপের সম্মুখীন হয়েছে। এমনিতেই গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, তারপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আবার আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের ওঠানামা, জ্বালানি তেলের দামের হ্রাস-বৃদ্ধি, একই সঙ্গে আমাদের গ্যাসের অপ্রতুলতা—সবকিছু মিলিয়ে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে ছিল গত অর্থবছরে বাজেটে কর বৃদ্ধি। যেভাবে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, সেটা কিন্তু ক্রেতার ওপর চাপিয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই বাজারে চাহিদা নেই। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চেষ্টা থাকে শুধু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার, মুনাফা তো দূরে থাক। অনেকেই উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ইস্পাতপণ্য বিক্রি করে দিচ্ছে। আমি বলব, সামগ্রিকভাবে আমাদের ইস্পাত শিল্প এ মুহূর্তে লাভের মধ্যে নেই, বরং সবাই টিকে থাকার লড়াই করছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কিন্তু হিসাব করে, বাজার বিশ্লেষণ করেই উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল। তাই এটাকে অতিরিক্ত সক্ষমতা বলব না, এটা আসলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া বা নির্মাণ খাতে স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় আমাদের এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
আমাদের এ শিল্পে অন্তত ১০ লাখ লোক জড়িত আছে। সরকারকে নির্মাণ খাতে ব্যয়, সেটা সরকারি প্রকল্প বা যেকোনোভাবেই হোক, বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তাহলে খাতটি সচল হতে শুরু করবে, শিল্পটিও উপকৃত হবে।
মূল্যস্ফীতি ও রডের মূল্যবৃদ্ধি ইস্পাতের চাহিদা, বিক্রি ও উৎপাদনকারীদের মুনাফায় কী প্রভাব ফেলেছে?
আমাদের তো ব্যাংকের সুদের হার অনেক বেশি। আমরা পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। কাঁচামাল আমদানিতে পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বন্দরে মাল খালাসের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে আছে মূল্যস্ফীতি। এটা শেষ পর্যন্ত আমাদের উৎপাদন খরচে সাংঘাতিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কাঁচামাল আমদানি, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কথা বলছিলেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে উৎপাদনকারীরা কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন?
উদ্যোক্তারা তো ফিরে আসতে পারবেন না। এখানে অনেক টাকার বিনিয়োগ। তাছাড়া ব্যাংকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ আছে। এটা তো পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা নয় যে রাতারাতি বন্ধ করে দেয়া যায়। সবাইকে টিকে থাকার জন্য অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। টিকে থাকার জন্য অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানেও বিক্রি করছে।
আপনি জেবিসিসিআইয়ের (জাপান বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ। জাপানি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ইস্পাত খাতের আধুনিকায়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?
জাপানি বিনিয়োগকারীরা কিন্তু অনেক খোঁজখবর নেন। অনেক ক্ষেত্রে আমরা যা জানি না, সেটা তারা জানেন। গবেষণা করেন, বাজার সমীক্ষা করেন। আর এখানে জাপানের একটা সংস্থা আছে, জেট্রো (জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন)। তারা জাপানি বিনিয়োগকারীদের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে বা কী সুবিধা হতে পারে, এ নিয়ে নিয়মিত সরকারকে প্রতিবেদন দিয়ে থাকেন।
সুতরাং জাপানিদের অনেক খাতে বিনিয়োগ করার ইচ্ছা আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ তাদের একটা কাঙ্ক্ষিত দেশ। তাদের প্রস্তাবগুলো, অর্থাৎ ব্যবসা সহজীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন, কিছু অনুমতি বা যেসব বিষয় আছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা থাকে। জাপানিরা কিন্তু সময়কে খুব গুরুত্ব দেন। কিন্তু সাধারণ কিছু অনুমতি পেতেও তাদের অনেক সময় লেগে যায়।
সরকার যদি প্রতিবন্ধকতাগুলো হ্রাসে দৃষ্টি দেয়, তাহলে আমাদের দেশের জন্য উপকার হবে। আর জাপানিদের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ আসতে পারে।
ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, ব্যবসা সহজীকরণ নিয়ে দেশে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। সহজীকরণ আসলে কতটা আনা গেছে?
আমার মনে হয়, বর্তমান সরকারের একটা আন্তরিক প্রচেষ্টা আছে, যাতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়। বাজেটে অনেক কিছু বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে এখনো সমন্বয়হীনতা আছে।
আরেকটা বিষয় হলো অনেক ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করে থাকি, কিন্তু দ্রুতগতিতে সিদ্ধান্ত পাই না। আমার কথা হচ্ছে, একটা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। সেটা হতে পারে ইতিবাচক, হতে পারে নেতিবাচক, কিন্তু ঝুলিয়ে রাখা যাবে না।
এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্নতি করতে হবে, তা না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। সরকারের অনেক মেধাবী আমলা আছেন। বিশেষ করে আমি অন্তত একটা মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ দিতে চাই, সেটা হলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আমাদের যেকোনো বিষয়ে তারা খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিয়ে থাকেন এবং কাজগুলো বিবেচনায় নেন। অন্য মন্ত্রণালয় বা সবাই মিলে সমন্বয় করে কাজগুলো করতে হবে। বিশেষ করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্ত দিতে হবে। এটা খুব জরুরি।
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ইস্পাত ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কতটুকু? সেই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রধান চালিকাশক্তি কী হতে পারে?
এটা নির্ভর করছে সরকারের পরিকল্পনার ওপর। সরকার যদি নির্মাণ খাতে বাজেট বরাদ্দ না দেয় বা প্রকল্প হাতে না নেয়, তাহলে এককভাবে আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারকে অঙ্গীকার অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। তাছাড়া আরো কিছু বিষয় আছে। যেমন বিদ্যুতের ক্ষেত্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সিস্টেম লস খুব কম। নিজেদের বিনিয়োগে আমরা সাবস্টেশন স্থাপন করে থাকি। সুতরাং ইস্পাত খাতে হাই টেনশন লাইনে আমরা যে বিদ্যুৎ কিনি সেখানে আলাদা শুল্ক বা মূল্যহার নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ একটা ন্যায্য দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সবকিছু বিচার করতে হবে।
প্রকল্প হাতে নিতে হবে এবং তাতে করে প্রবৃদ্ধি অর্জন হতে পারে। তাছাড়া প্রবৃদ্ধি অর্জন করা খুবই কঠিন বিষয়।
ইস্পাত খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের নীতিগত কোন পদক্ষেপগুলো জরুরি? সুনির্দিষ্টভাবে কোন পদক্ষেপটি এ খাতের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন?
আমি একটা বিষয় উল্লেখ করতে চাই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমাদের ওপর একটা নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপের চিন্তাভাবনা হচ্ছে। দুই বছর আগে থেকে বিষয়টা শুরু হয়েছে। তারা ইউরোপ থেকে স্টিল বা ইস্পাতের স্ক্র্যাপ বাংলাদেশ, ভারত এবং আরো অনেক দেশে রফতানি করবে না, যদি আমরা তাদের স্ক্র্যাপ ঠিকভাবে পরিশোধন না করি। অর্থাৎ পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা যদি সেটা শোধন না করি, তাহলে তারা রফতানি বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে।
আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছি এবং তারা আপাতত আলোচনার মধ্যে আছে। কিন্তু সর্বশেষ তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বাংলাদেশ, ভারতসহ অনেক দেশ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকবে।
তারা বলতে চায়, যে ইস্পাতের স্ক্র্যাপ তারা রফতানি করে থাকে, আমদানিকারক দেশ যেমন বাংলাদেশ ও ভারত, তারা সেটা ঠিকভাবে পরিশোধন করছে না। এসব দেশ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। আমাদের অনেক ব্যাখ্যা ছিল, কিন্তু মনে হচ্ছে সেই ব্যাখ্যায় আপাতত তারা সন্তুষ্ট নয়।
ইউরোপ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাতের স্ক্র্যাপ রফতানিকারক। তারা যদি রফতানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে বাংলাদেশে ইস্পাতের অন্যান্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দাম বেড়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত ভোক্তামূল্য এবং সরকারি কাজকর্ম, সবকিছু ব্যয়বহুল হয়ে যাবে। সমস্যা হলো ইউরোপ যদি নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রফতানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে আমরা ঝামেলায় পড়ে যাব। অর্থাৎ অন্য সরবরাহকারীরা তখন সুযোগটা নেবে।
আমি বলব, এটাকে জাতীয় সংকট বিবেচনা করে আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।
আমাদের সরকার, বিশেষ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, সবাই মিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আমাদের যারা আলোচনা করবেন, তাদের একটা সক্ষমতা থাকতে হবে। তা নাহলে কিন্তু আমরা পরে অনেক চেষ্টা করেও কিছু করতে পারব না। বিষয়টি মোকাবেলা করার এখনই সঠিক সময়।
আর কী কী নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি বলে মনে করেন?
করসংক্রান্ত কিছু বিষয় আছে। যেমন লেনদেনের ওপর কর বাড়ানো হয়েছে। তারপর আবার পরিবেশক ও পণ্য সরবরাহকারীদের ওপর কিছু লেনদেনের কর আরোপ করা হয়েছে। তারপর আমাদের অগ্রিম আয়কর থাকে বা কর ফেরত থাকে, ওগুলো কিন্তু বিবেচনায় নেয়া হয় না।
একটা শিল্প বিকশিত করতে হলে সবদিক থেকে সহায়তা করতে হবে। আমাদের দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ইস্পাতের দরকার আছে। আর এখানে অনেক বড় বিনিয়োগও আছে।
বাংলাদেশে এ মুহূর্তে মাথাপিছু ইস্পাতের ব্যবহার ৪৫ কেজি। এটা কিন্তু বাড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। প্রতিবেশী ভারতে এটা ১০০ কেজি, চীনে ৬০০ কেজি, কোরিয়ায় ৯০০ কেজি। সুতরাং আমাদের এ রকম একটা পরিকল্পনায় যেতে হলে বা দেশকে উন্নত করতে হলে ইস্পাত খাতকে বিকশিত করতে হবে।
